চুয়াডাঙ্গা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ বেধে যাবে, খামেনির হুঁশিয়ারি

Padma Sangbad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক শক্তি জোরদার করার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম খামেনিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বর্তমানে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চালাচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন, সেগুলো “গ্রহণযোগ্য সমাধানে” পৌঁছাবে।’ একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও বলেছেন, ‘আলোচনা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।’

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছে। এই সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটি আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে তিনি জাহাজ মোতায়েন করেছেন। এসব বলে ইরানি জাতিকে ভয় দেখাতে পারবে না।’

এদিকে রোববার থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া শুরু করার কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট।

বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল)। অতীতে ইরানে হামলা হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে এই এলাকায় নিজেদের বাহিনীর আশপাশে কোনো “অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ” না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে । এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় মহড়া চালাবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে তারা অন্তত ছয় হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করছে।

নরওয়েভিত্তিক আরেক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন তারা এর আগে কখনও দেখেননি।

আপডেট : ১১:২১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ বেধে যাবে, খামেনির হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১১:২১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক শক্তি জোরদার করার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম খামেনিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বর্তমানে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চালাচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন, সেগুলো “গ্রহণযোগ্য সমাধানে” পৌঁছাবে।’ একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও বলেছেন, ‘আলোচনা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।’

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছে। এই সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটি আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে তিনি জাহাজ মোতায়েন করেছেন। এসব বলে ইরানি জাতিকে ভয় দেখাতে পারবে না।’

এদিকে রোববার থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া শুরু করার কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট।

বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল)। অতীতে ইরানে হামলা হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে এই এলাকায় নিজেদের বাহিনীর আশপাশে কোনো “অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ” না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে । এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় মহড়া চালাবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে তারা অন্তত ছয় হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করছে।

নরওয়েভিত্তিক আরেক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন তারা এর আগে কখনও দেখেননি।