রাত পেরোলেই রায় দেবে জনগণ:চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

মোঃ আব্দুর রহমান অনিক।।
রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন সংযোজন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার রাতের মধ্যেই ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দেবেন—সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোট।
চুয়াডাঙ্গা-২ সংসদীয় আসনে মোট ১৭৪টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের মাঝে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, ভোটার তালিকা, অমোচনীয় কালি, সিলপ্যাড ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৯২টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৯১টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৫৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে আনসার সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি টিমকে একটি শটগান, ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১০ রাউন্ড সীসা বুলেট এবং একটি বুলেট বহনের ব্যাগ প্রদান করা হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, উপজেলার ৯১টি ভোটকেন্দ্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এ উপজেলায় ৯১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪৭৯টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭১টি স্থায়ী ভোটকক্ষ এবং বাকি ৮টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৬ জন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দুই সংসদীয় আসনে ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সঙ্গে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটি তিনটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর আওতায় রয়েছে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা সদরের চারটি ইউনিয়ন, দর্শনা পৌরসভা এবং জীবননগর পৌরসভা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন মহল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছেন। এখন দেখার পালা—ভোট উৎসবে কতটা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং গণতান্ত্রিক এ আয়োজন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।।























