চুয়াডাঙ্গা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্যাতনের শিকার সেই নারীকে দুই উপদেষ্টার ফোন

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ‘যৌন নির্যাতনের শিকার’ হওয়ার অভিযোগ করা নারীকে মোবাইল ফোনে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীকে ফোন করে এ আশ্বাস দেন।

হাতিয়া থেকে নির্বাচিত এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে বসবাস করে। এখানে মাহবুবের রহমান শামীমের নির্দেশে নব্য বিএনপির লোকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি উনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার সব এজেন্টকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দল ক্ষমতায়, হান্নান মাসউদ কিছু করতে পারবে না। এই ধর্ষণের ঘটনা তারই একটি অংশ।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে সূবর্ণচরের মতো হাতিয়াতেও আরেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদকে পেছনে ফেলে এসেছি। এখন তারেক রহমান সাহেবকেই নির্দেশনা দিতে হবে এসব তাণ্ডব চলতে পারে কিনা। আমরা আগামীতে সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরবো। হাতিয়ার মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ রূপ নিবে। আগামীর সরকার ও বর্তমান সরকার এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। এখন তারেক রহমান কি নতুন ফ্যাসিবাদ জন্ম দিবে নাকি গণতন্ত্র উপহার দিবেন তা উনি ভালো বলতে পারবেন।’

এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সের ওই ‘নির্যাতিতা’ নারী দাবি করেন, ‘নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়‌ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই নারীকে ‘ধর্ষণ’ করেছেন।’ পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। শুক্রবার রাতে ৮টায় এনসিপির লোকজন আমাকে আক্রমণ করে আহত করে। আমি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। তাহলে রাত ১১টায় কীভাবে আমি ‘ধর্ষণ’ করি তা বুঝতেছি না।’

এ ব্যাপারে নোয়াখালী-৬ আসনের পরাজিত বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ধর্ষণের বিষয়ে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।’

এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ করা নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। হাসপাতালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সাত সদস্যের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘জনমনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এবং বিএনপির সম্মানহানির অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। স্ট্যাটাসের বিষয়টি নাছির উদ্দীন নাছিরনিশ্চিত করেন।

নাছির উদ্দীন নাছির লিখেছেন, ‘সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে চূড়ান্ত মন্তব্য করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। আমরা চাই—আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হোক।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি এবং বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ধর্ষণের ঘটনার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার টিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আপডেট : ১১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্যাতনের শিকার সেই নারীকে দুই উপদেষ্টার ফোন

আপডেট : ১১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ‘যৌন নির্যাতনের শিকার’ হওয়ার অভিযোগ করা নারীকে মোবাইল ফোনে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীকে ফোন করে এ আশ্বাস দেন।

হাতিয়া থেকে নির্বাচিত এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে বসবাস করে। এখানে মাহবুবের রহমান শামীমের নির্দেশে নব্য বিএনপির লোকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি উনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার সব এজেন্টকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দল ক্ষমতায়, হান্নান মাসউদ কিছু করতে পারবে না। এই ধর্ষণের ঘটনা তারই একটি অংশ।’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে সূবর্ণচরের মতো হাতিয়াতেও আরেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদকে পেছনে ফেলে এসেছি। এখন তারেক রহমান সাহেবকেই নির্দেশনা দিতে হবে এসব তাণ্ডব চলতে পারে কিনা। আমরা আগামীতে সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরবো। হাতিয়ার মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ রূপ নিবে। আগামীর সরকার ও বর্তমান সরকার এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। এখন তারেক রহমান কি নতুন ফ্যাসিবাদ জন্ম দিবে নাকি গণতন্ত্র উপহার দিবেন তা উনি ভালো বলতে পারবেন।’

এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সের ওই ‘নির্যাতিতা’ নারী দাবি করেন, ‘নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়‌ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই নারীকে ‘ধর্ষণ’ করেছেন।’ পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। শুক্রবার রাতে ৮টায় এনসিপির লোকজন আমাকে আক্রমণ করে আহত করে। আমি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। তাহলে রাত ১১টায় কীভাবে আমি ‘ধর্ষণ’ করি তা বুঝতেছি না।’

এ ব্যাপারে নোয়াখালী-৬ আসনের পরাজিত বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ধর্ষণের বিষয়ে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।’

এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ করা নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। হাসপাতালে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তায় একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সাত সদস্যের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘জনমনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এবং বিএনপির সম্মানহানির অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। স্ট্যাটাসের বিষয়টি নাছির উদ্দীন নাছিরনিশ্চিত করেন।

নাছির উদ্দীন নাছির লিখেছেন, ‘সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে চূড়ান্ত মন্তব্য করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না। আমরা চাই—আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হোক।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি এবং বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ধর্ষণের ঘটনার কোনো তথ্য আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার টিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’