এ্যাম্বুলেন্স চালকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ,ফুসে উঠেছে জনতা

0
10

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল হোসেনের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ১৫ জুলাই (বুধবার) সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় শৈলকুপার জামাল অটোর মালিক ও মোটরসাইকেল ম্যাকানিক জামাল হোসেন।তাকে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করে। তবে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল হোসেন নানা অজুহাতে প্রায় ১ ঘন্টা দেরি করে তিনি না গিয়ে তার ছেলেকে পাঠিয়ে দেয়। পরে ফরিদপুর যাওয়ার পথিমধ্যে ব্যবসায়ী জামালের মৃত্যু হয়।ব্যবসায়ীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মৃত্যুর পর থেকেই ফুঁসে উঠে সবাই। বকুলের স্বেচ্ছাচারিতা ও হীনকাজের এমন আচরণে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান নিহত জামালের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নিহতের মেজো ভাই আব্দুল ওহেদ অভিযোগ করে বলেন, জামালকে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রের্ফাড করে। তবে এ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল টিএইচও‘র অজুহাত দেখিয়ে প্রায় ঘন্টা বিলম্ব করে। যার কারণে ভাই আমার চিকিৎসাবিহীন মারা গেছে। বকুল ড্রাইভারের অপসারণ ও কঠোর শাস্তি দাবি করেন।শৈলকুপা পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত আলী জানান, বকুল সরকারি ড্রাইভার হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তার ছেলেকে দিয়ে গাড়ি চালায়। এর আগেও ওর বিরুদ্ধে এমন নানা অভিযোগ বিস্তর। সরকারি ডিউটি ফাঁকি, রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ, এলাকার প্রভাব দেখিয়ে এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে ব্যবসা সহ কুকর্মে লিপ্ত এই বকুল ড্রাইভার। ওর হাসপাতালে প্রায় ১ ঘন্টা বিনাকারণে দেরিতে সাধারণ জনতা ক্ষেপে ওঠে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এতো সময়ক্ষেপন না করলে হইতো জামাল আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতো। তিনিও বকুল ড্রাইভারের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।শৈলকুপা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবি কালু বলেন, জামালের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে বড়ই ব্যথিত। তবে বকুল ড্রাইভারের এমন নেক্কারজনক সিদ্ধান্ত, স্বেচ্ছাচারিতা ও হীনমানসিকতায় আমি বিব্ররত। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও শুনেছি। যদি এ ঘটনার অভিযোগ সত্যি হয় আইননানুগভাবে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা সহ চাকুরি থেকে অপসারণের দাবি জানান।অভিযুক্ত বকুল ড্রাইভার মুঠোফোনে অভিযোগ স্বীকার করে জানান, করোনা নমুনা সংগ্রহের জন্য আগে থেকে টিএইচও স্যার এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে বলেছিল। এছাড়া ওই এ্যাম্বুলেন্সে রোগী উঠাতেও তিনি নিষেধ করেন। তাই আমি ৫ মিনিট দেরি করেছি। তবে রোগীর স্বজনরা যে ১ঘন্টা দেরির কথা বলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রাশেদ আল মামুন জানান, আমার দোহাই দিয়ে ১ ঘন্টা দেরি করে বকুল ড্রাইভার জরুরি সেবা ব্যহত করে যে মিথ্যাচার করেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ড্রাইভারের এমন মিথ্যাচারে আমি বিব্ররত। ওর এমন মিথ্যাচারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here