কারিগরি শিক্ষায় সাফল্য

0
4

 অনলাইন ডেষ্ক :
দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। উদ্দেশ্য, লেখাপড়া শেষ করে চাকরি না পেলেও দক্ষতা অনুযায়ী নিজের কর্মসংস্থান যেন নিজেই করা যায়।
সরকারের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সফল হতে শুরু করেছে। ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষার হার এক শতাংশ থাকলেও মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে এ হার ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়াতে হলে এ হার অন্তত ৭০ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। বর্তমানে দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।
কারিগরি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাকরির বাজারে এখন দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাত বড় হওয়ায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। বিদেশেও দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। মূলত চাকরির বাজারের চাহিদা এবং চাকরি না পেলে নিজেই যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সেই চিন্তায় কারিগরি শিক্ষায় অভিভাবক ও তাদের সন্তানদের আগ্রহ বাড়ছে।
এদিকে, কারিগরি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঝোঁক অনেক বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।
গত পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ বছর আগে সোয়া ৯ লাখ শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে তা সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে আট হাজার ৬৭৫টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সরকার ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার ২০ শতাংশ (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে) এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এখন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার প্রায় ১৬ শতাংশ হয়ে গেছে, যা ২০০৯ সালে ছিলো ১ শতাংশের মতো।
এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ আর প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২০২০ সাল নাগাদ কারিগরি শিক্ষায় ২০ শতাংশ ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিপ্লোমা কোর্সে আসন সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৫৭ হাজার ৭৮০-তে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে মহিলা কোটা ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও ২৩ জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। যার ফলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫-এ।
বর্তমানে যার সংখ্যা ৫২টি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে যার সংখ্যা সব মিলিয়ে দাঁড়াবে আটে।
বর্তমানে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৪৫৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ প্রায় সাত হাজার ৭৭৩টি বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এক হাজার ৬৩০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৮ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে ২০০৮ সালে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩৭৫, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৭৮০ জনে।
এছাড়া ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
১০০টি উপজেলায় ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট ৩৮৯টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এবং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তাছাড়া আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষতাভিত্তিক কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধির জন্য কারিগরির পাশাপাশি সাধারণ ধারার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একটি কারিগরি বিষয় (বৃত্তিমূলক) বাধ্যতামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২১ সাল থেকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হলে সহজেই কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়, সাধারণ মানুষ এখন তা বুঝতে পারছে। এ কারণে প্রতি বছরই কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি) ডা. মো. ফারুক হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আমাদের লক্ষ ২০২০ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ২০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে অর্থাৎ আমরা যখন উন্নত বিশ্বের কাতারে যাবো তখন ৭০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটা সময় অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখতো। ফলে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম ছিলো। বর্তমানে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষার জন্য যে প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here