চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত

0
12

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর থেকে বিপুল ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন। রাত সাড়ে ৯টায় এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০৮জন। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৭২১জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৪৫ জন এবং বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৭৬টি।

এছাড়া নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর ৩টি পদে মোট ১৩জন প্রার্থী এবং সাধারণ কাউন্সিলর ৯টি পদে ৬৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে, গেল বুধবার সকালে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বেল্টু মারা যাওয়ায় ওই ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় প্রথম ধাপে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শহরের ৩৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোট গ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। প্রচ- শীতের কারণে সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারের উপস্থিতি বেড়ে যায়।
জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ জানান, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন পেয়েছেন ২২ হাজার ৩৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মজিবুল হক মালিক মজু মোবাইলফোন প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬৫৭ ভোট। এছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৫৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ মাসরিকী কম্পিউটার প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত তুষার ইমরান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৯৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিবুল হাসান নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ফারুক উদ্দিন আহম্মেদ জগ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪২ ভোট।
সংরক্ষিত ওয়ার্ড: ১নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে শাহিনা আক্তার (চশমা) ৭ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুফিয়া খাতুন (আনারস) পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪৫ ভোট। ২নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সুলতানা আঞ্জু (আনারস) ৬ হাজার ৪১১ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিমা খাতুন (টেলিফোন) ৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। ৩নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচিত শেফালী খাতুন (চশমা) পেয়েছেন ৯ হাজার ২৪৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমেনা খাতুন (জবা ফুল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪১১ ভোট।
সাধারণ ওয়ার্ড: ২নং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত আব্দুল আজিজ জোয়ার্দ্দার মিন্টু (ডালিম) পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্সি মো. রেজাউল করিম খোকন (গাজর) পেয়েছেন ১ হাজার ৬ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত মহলদার ইমরান (পানির বোতল) পেয়েছেন ১ হাজার ২৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহিদ হোসেন জুয়েল (ডালিম) পেয়েছেন ৫৬৪ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত মাফিজুর রহমান মাফি (টেবিল ল্যাম্প) পেয়েছেন ১ হাজার ৭৬৪ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ সেলিম (ডালিম) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৯৫ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত মুন্সি আলাউদ্দিন আহম্মেদ (ব্রিজ) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৭৪ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম মস্তফা শেখ মাস্তার (ডালিম) পেয়েছেন ১ হাজার ২৩০ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত ফরজ আলী শেখ (পাঞ্জাবি) পেয়েছেন ২ হাজার ২২৯ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজাদ আলী (পানির বোতল) পেয়েছেন ১ হাজার ৯১২ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত উজ্জ্বল হোসেন (পাঞ্জাবি) পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৬ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল আরিফ বিশ্বাস (ব্ল্যাকবোর্ড) পেয়েছেন ১ হাজার ১০৬ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত সাইফুল ইসলাম (গাজর) পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩০, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফিরোজ শেখ (ব্ল্যাকবোর্ড) পেয়েছেন ১ হাজার ৯১ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত কামরুজ্জামান চাঁদ (টেবিল ল্যাম্প) পেয়েছেন ৮৯২, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মফিজুর রহমান মনা (ব্রিজ) পেয়েছেন ৫৬৩ ভোট।
জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ জানান, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচনের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কাজ করেছে ১২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি মাঠে কাজ করেছে র‌্যাব ও আনসার বাহিনী। এছাড়া দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিলো।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here