টেকনাফে বিজিপির গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

0
8

অনলাইন ডেস্ক।।
নাফনদীতে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়ে অবস্থায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ছোঁড়া গুলিতে এক বাংলাদেশী জেলে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর গুলিবিদ্ধ জেলে গভীর রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত জেলে মোহাম্মদ ইসলাম (৩৫) টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বরইতলী এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯নং ওয়ার্ড সদস্য নজির আহমদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তিন জেলে কাঠের নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নামে নাফনদীতে। এর কিছুক্ষণ পর মিয়ানমারের বিজিপি তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। সেখানে মোহাম্মদ ইসলামের পেটে গুলি লেগে আহত হলে তার সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যায়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রাতে স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন। তার পেটের ডান পাশে গুলির আঘাত রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরাও খবর পেয়েছি বিজিপির গুলিতে আমাদের বাংলাদেশী এক যুবক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নিষেধ থাকা সত্ত্বেও রাতের আধারে কয়েকজন জেলে নৌকা নিয়ে নাফনদে নেমে মিয়ানমার জল সীমানায় ঢুকে যায়। এরপর বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে একজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং পরে মারা যায়। তবে, এটি নিশ্চিত নয় যে তারা আসলে মাছ শিকারে গিয়ে ছিল নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্যে।

এরপরও বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এভাবে অকারণে গুলি করে বাংলাদেশীকে হত্যা করা না হয়।

এদিকে বিজিপি জানিয়েছে, তাদের সীমানায় ঢুকে পরায় নৌকায় থাকারা সন্ত্রাসী মনে করে গুলি করেছে।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর শুনেছিলাম। মারা যাবার বিষয়টি কেউ জানায়নি। এ ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে সরকার নাফনদীতে মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে কোন জেলেকে নাফনদীতে মাছ শিকারে যেতে নিষেধ করে সীমান্তে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু অনেক জেলে রাতের আধারে কর্মরত বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নাফনদে মাছ শিকার করতে যান এবং এভাবে হত্যার শিকার হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here