নেপথ্যে ইসি কর্মচারী-দালাল চক্র গ্রেপ্তার সুমাইয়া ও বিজয় দাস

0
7

নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় পরিচয়পত্র ও এনআইডি উইংয়ে কেঁচোর সন্ধানে গিয়ে মিলছে সাপের অস্তিত্ব! বাংলাদেশি নাগরিকরা যেখানে এনআইডি কিংবা স্মার্টকার্ড নিতে হয়রানির শিকার হতে হয় নানাভাবে, সেখানে ইসির কর্মী ও দালাল সিন্ডিকেটের জালিয়াতির মাধ্যমে দুই হাজারের অধিক রোহিঙ্গা ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে পেয়েছে এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট। এসবের যাবতীয় প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ল্যাপটপে। ইসির সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত সেসব ল্যাপটপের অন্তত পাঁচটি ল্যাপটপও গায়েব হয়েছে অনেক আগে।

জালিয়াতির এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে ইসিকর্মী ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর ও সত্য সুন্দর দে’র সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চক্রের বিরুদ্ধে এবং ২০১৫ সালেরও আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ইনপুটের জন্য ব্যবহূত বিশেষ ল্যাপটপ (আইপি নম্বর-৪৩৯১) গায়েবের বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে চার বছরেও রহস্যজনক কারণে গ্রহণ করা হয়নি কোনো আইনি পদক্ষেপ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। পুলিশ বলছে, জালিয়াত এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড সাগর, অন্যতম সদস্য সত্য সুন্দর দে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ইসির কর্মীসহ গড়ে ওঠা সক্রিয় দালাল চক্রের মাধ্যমেই ভোটার হওয়ার রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় চষে বেড়াচ্ছে দুদকের বিশেষ দল। আর অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে চমকে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুদক জানায়, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ল্যাপটপেই রোহিঙ্গাদের নাম এনআইডি সার্ভারে যুক্ত হয়েছে। রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলমও জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েই পেয়ে যান স্মাটকার্ড। অন্যকোনো নথিপত্রই তাকে জমা দিতে হয়নি। কিন্তু সেই জন্ম নিবন্ধনও ছিল জাল। 

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে গায়েব হওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ইনপুটের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহূত ৪৩৯১ আইপি নম্বরের ল্যাপটপের মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের এনআইডি কার্ড তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসাইন খান। ইসির অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনের হেফাজতে থাকা নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা ওই ল্যাপটপটি ব্যবহার করেই ওয়েবক্যাম দিয়ে ছবি তোলাসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজই করা হয়। জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে এন্ট্রিও দেয়া যায় এ ল্যাপটপের মাধ্যমে। এ ল্যাপটপ ব্যবহার করেই এনআইডি জালিয়াতি করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কর্মচারী জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। তাদেরও পর্যায়ক্রমে তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। এদিকে ল্যাপটপ খোয়া যাওয়া এবং রোহিঙ্গাদের ভোটার করার পেছনে নির্বাচন কার্যালয়ের কারো যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করছে দুদক।

চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, নুর আলমের জন্মনিবন্ধনে যে নম্বর রয়েছে সেটা সঠিক না ভুয়া তা যাচাই করার জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অনুরোধ করলে অনলাইন ফরম নেই বলে জানান তিনি। তার তথ্য যুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের ৪৩৯১ আইপি নম্বরের ল্যাপটপটি গত সোমবার উদ্ধার করা হলেও ইসির সার্ভারে সংযুক্ত অন্য পাঁচটি ল্যাপটপের হদিস মিলছে না এখনো। এসব ল্যাপটপ থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে যুক্ত করা হয়েছে। তবে ২০১৫ সালের আগেই ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার এ ঘটনায় আদৌ কোনো জিডি বা মামলা করেনি ইসি। যদিও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, ল্যাপটপ হারিয়েছে, সে তথ্য সরবরাহ না করা হলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইসি। 

এদিকে রোহিঙ্গাদের এনআইডি এবং পাসপোর্ট পাওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি তাদের সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজ। ল্যাপটপ হারানোর ঘটনাকে উদাসীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাবকে দায়ী করে সুশীল সমাজের দাবি, এটা সমাজের জন্য অশনি সংকেত। এদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তদন্তে এনআইডি উইংয়ে যুক্ত হওয়া মাত্র ৭৩ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হলেও দুদকের অনুসন্ধানী দল বলছে, এ সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি।

এমন তথ্য জানার পরই ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে কক্সবাজার, টেকনাফ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে শুরু হয় ইসির বিশেষ অভিযান। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আটক করা হয় হাফেজ ওবায়দুল্লাহ নামে চক্রের এক সদস্যকে। ওবায়দুল্লাহর দেয়া তথ্যে বড় একটি চক্রের খোঁজ পায় কমিশন। সাথে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আশপাশের এলাকাও চিহ্নিত করা হয়। ইসির চোখ ফাঁকি দিতে এক্ষেত্রে কয়েকটি উপজেলার ইউজার নেম পাসওয়ার্ডও ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাকে ভোটার বানাতে ব্যবহার হয় দুটি নির্দিষ্ট ল্যাপটপ ও একটি স্ক্যানার। এর সাথে মাঠপর্যায়ের কিছু অপারেটর জড়িত থাকতে পারে বলেও মনে করছে কমিশন।

নানা কৌশলে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যে চক্র রোহিঙ্গাদের ভোটার করছে সে চক্রটির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে সাহায্য এবং জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দিয়ে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার দায়ে চট্টগ্রাম নগরের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫), তার সহযোগী চালক বিজয় দাস (২৬) ও তার বোন সীমা দাস (২৪) ওরফে সুমাইয়াসহ (সীমা দাস চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আয়া) পাঁচজনের বিরুদ্ধে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় বাকি দুই আসামি হলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগর (৩৭) ও সত্য সুন্দর দে (৩৬)। এদের মধ্যে সোমবার রাতেই তিনজনকে আটক করা হলেও সাগর ও সত্য সুন্দর দে এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এছাড়া গ্রেপ্তার সীমার কাছে জয়নালের রাখা ৪৩৯১ আইপির ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে।

ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ইসি বেশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও মূলত যাচাই-বাছাই শুরু হলেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। ভোটার তালিকায় সন্ধান মেলে একের পর এক রোহিঙ্গার নাম। যে সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি।   অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের খোঁজ পেয়েছেন তারা। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। এরই মধ্যে ওবায়দুল্লাহ, তার ভাই আব্দুল্লাহ, নুরুল মোহাম্মাদসহ ৬শ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চক্রটিকে পুরোপুরি আটক না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখবে ইসি। রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে কোনো জনপ্রতিনিধি যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। এছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, ২০১৪ সালে কমিশনের যে ল্যাপটপ খোয়া যায়, সেটিতে থাকা সার্ভার ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের তথ্য ইনপুট দেয়া হয়। যেটি ছিল জয়নালের কাছে। এটি ব্যবহার করে কতজন রোহিঙ্গাকে ভোটার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির ওই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত রহস্য। জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রজেক্ট থেকে চাকরিচ্যুত সাগরই (৩৭) ওই জালিয়াত চক্রের মাস্টারমাইন্ড। তদন্ত শুরুর পর থেকে সে আত্মগোপনে। এ চক্রের আরেক সদস্য সত্য সুন্দর দে’কেও (৩৬) খুঁজছে পুলিশ। তিনি বলেন, এ চক্রের নারী সদস্য সীমা দাস। এই সীমার কাছ থেকেই নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে। সীমা ওরফে সুমাইয়ার প্রকৃত পরিচয় বের করা প্রয়োজন। সীমা দাস সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি, সীমা দাস হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছেন। তবে আমরা তার এই পরিচয়ের সত্যতা যাচাই-বাছাই করছি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের করা তদন্ত কমিটির তদন্ত চলছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান। চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। এনআইডি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করা হচ্ছে।

এদিকে জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করে পাসপোর্ট সংগ্রহে বসে নেই, বরং মরিয়া হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা। চট্টগ্রামে গত ৫ মাসে এ রকম ৮০ রোহিঙ্গা ধরাও পড়েছে। শুধু তাই নয়, নথিপত্র ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষিত সার্ভারেও ইনপুট দেয়া হচ্ছে তাদের তথ্য। যাতে সহায়তা করছে ইসি ও পাসপোর্ট অফিসের অসাধু চক্র।

কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল আলম বলেন, যে চক্রটি এটা করছে, তারা আমাদের ভোটার করা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানে। তারা জানাশোনা লোক। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনির হোসেন খান বলেন, আমাদের কেউ থাকলে সেটা ধরার চেষ্টা চলছে। এ বিষয় পুলিশকেও জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এভাবে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া বা পাসপোর্ট তৈরিকে উদ্বেগজনক বলছেন পর্যবেক্ষকরা। 

এর আগেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রোহিঙ্গাদের জন্য অবৈধভাবে পাসপোর্ট ও নাগরিক পরিচয়পত্র তৈরির প্রতারক চক্রের ছয়জনকে আটক করেছে র?্যাব। র?্যাব জানায়, বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে কয়েকটি কম্পিউটারের দোকানে জাল সনদ তৈরির খবরে অভিযান চালায় তারা। এ সময় বিভিন্ন বয়সের রোহিঙ্গাদের ছবিসহ ২৫ হাজারেরও বেশি ভুয়া নাগরিক সনদ ও জন্মনিবন্ধন ফরম উদ্ধার করা হয়। এর সাথে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের জন্য খুবই দুঃখজনক। এ সমস্যাটা আরও আগে থেকেই বিভিন্নভাবে বলা হচ্ছিল যে, রোহিঙ্গারা আমাদের স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে প্রভাবিত করে এ ধরনের একটা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবে। যেহেতু বিষয়টা এখন গণমাধ্যমে চলে আসছে সেহেতু এটা এখন ওপেন সিক্রেট। এ সমস্যা অবশ্যই আমাদের দেশের নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং সেটা হচ্ছেও।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা সহজেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের হয়ে বাইরে যাবে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়ালে সেটায় বাংলাদেশের নাম চলে আসবে। এছাড়া বিভিন্ন রকমের ঝুঁকি তৈরি করবে এবং মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ থাকবে না। নানাভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এবং ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাংলাদেশে থাকার সুযোগ হয়ে গেলে তারা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথা ভাববে না। সবমিলিয়ে এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং এ ব্যাপারে অনেক সতর্ক থাকা দরকার ছিল। হয়তো বা  ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলাপ হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে নির্দেশনা আমরা দেখছি এবং কীভাবে আরও সিরিয়াস হওয়া যায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা তা ভাবছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here