পাঁচবিবিতে আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির শ্যালোমেশিনে সেচ দিয়ে পরিচর্যা

0
8

মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি(জয়পুরহাট)
প্রতিনিধি:০৪ সেপ্টেম্বর-২০১৯ইং
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে দিগন্ত মাঠজুড়ে আমন ক্ষেতের সবুজের
সমারোহে নজর কাড়লেও অতি খরার কারনে চলতি আমন ধানের ক্ষেত ফেটে
চৌচির হয়েছে। অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত আমন ক্ষেত বাঁচাতে
শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে ক্ষেতে সার-কিটনাশক
প্রয়োগসহ পরিচর্যা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিগত বোরো
মৌসুমে ধানের নায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেকটা ক্ষতির মুখেই নতুন
স্বপ্ন নিয়ে আমন ধানের চারা রোপন করলেও অনাবৃষ্টির কারনে
শ্যালোমেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে আমন ক্ষেত পরিচর্যা করার
কারনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে আবারও আমন আবাদে লোকসান হবে
বলে কৃষকরা মনে করছেন।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এবার উপজেলায়
৮টি ইউনিয় ও ১টি পৌরসভায় ২০ হাজার ৩শ ৭০ হেক্টর জমিতে
আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধরঞ্জী গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, তিনি এবার ৩ একর
জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন। রোপনের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায়
শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে রোপন করলেও নিরানী ও সার কীটনাশক
প্রয়োগের সময় আবার বৃষ্টি না থাকায় আমন ক্ষেতে পানি সেচ
দিতে হচ্ছে। এতে দু’দফা আমন জমিতে শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ
দেওয়ার কারনে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক মাহফুজার রহমান বলেন, ধানের নায্য মূল্য
না থাকায় প্রায় ১ একর জমিতে এবার আমন ধান রোপন না করে ফেলে
রেখেছি। তবে এবার ২ বিঘা জমিতে আমন চারা রোপন করলেও
দীর্ঘদিন আকাশের বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের জমি ফেটে লাল বর্ণ
ধারন করছে। নিরানী ও সার কীটনাশক দিতে পারছেন না।
বাগজানা ইউনিয়নের আটাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, কষ্ট
করে সেচের পানিতে আমন রোপণের কাজ শেষ করেছি। রোপণের কাজ শেষ
হয়েছে প্রায় দেড়/দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত
চাহিদা মতো বৃষ্টির দেখা নেই। যে কারণে চাষকৃত জমি ফেটে
চৌচির হয়ে আছে। এতে ওই জমিতে ঘাস জন্মাচ্ছে বেশি। এর ফলে
আমন চাষে দ্বিগুণ খরচ হবে এ বছর। সময় মতো ধান ঘরে তোলা নিয়েও
শঙ্কিত চাষি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here