পৌর ভোটের লড়াই শুরু কাল

0
10

অনলাইন ডেস্ক।।
প্রচার শেষ, প্রথম ধাপের ২৪ পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণে প্রস্তুত ইসি, অংশ নিচ্ছে পাঁচ দল।
কাল শুরু হচ্ছে পৌরসভায় ভোটের লড়াই। রাত পোহালেই প্রথম ধাপে ২৪ পৌরসভায় হবে ভোট গ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ ধাপে সব পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করবে কমিশন।
গতকাল সব ভোট কেন্দ্রে মক ভোটিং হয়েছে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-এ পাঁচ দলের মেয়র প্রার্থী। পাশাপাশি মেয়র পদে লড়ছেন বেশ কজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এবারের পৌরসভায় দ্বিতীয়বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের জন্য ভোটারের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছেন নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল প্রতীকসহ পাঁচ দল, স্বতন্ত্র মেয়র এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ২৪ পৌরসভায় মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন ৯০ জন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৭৭ জন এবং ৮৪৮ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন। উৎসবমুখর এ নির্বাচন নিয়ে যেমন রয়েছে উত্তেজনা, তেমনি শঙ্কাও রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে। উদ্বিগ্ন খোদ নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে কাল মধ্যরাতে ভোটের প্রচার শেষ হয়েছে। প্রচারের শেষ মুহূর্তের কিছু ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার ধামরাই পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছেন গতকাল থেকেই। চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত।
সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আজ প্রত্যেক কেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ পাঠাবে ইসি। কমিশনের শেষ মুহূর্তের নির্দেশনায় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল পাঠাতে বলা হয়েছে। সবার প্রত্যাশা, কাল দেশের ২৪ পৌরসভায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন।
কুষ্টিয়ায় একজনের মৃত্যু, আহত ৫ : কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম রবি ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া আহত হন কমপক্ষে পাঁচজন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ত্রিমুহনী বটতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানিয়েছে, রাতে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুবর রহমান পাখি, তার ভাইসহ কর্মী-সমর্থক নিয়ে ত্রিমুহনী বটতলা মোড়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পাখির সমর্থক সোহেল মাটিতে পড়ে অসুস্থ হন, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। পুলিশ বলছে, সোহেল হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। এ বিষয়ে মাহবুবর রহমান পাখি বলেন, আমার একজন সমর্থক হামলায় মারা গেছেন। মামলাও করেছি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন, রাতে দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে ধস্তাধস্তির সময় হার্ট অ্যাটাক করে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ধামরাইয়ে ধাওয়া-পাল্টা সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৩০ : ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, কাল ঢাকার ধামরাই পৌরসভা নির্বাচন। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ১টার দিকে তিনটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ধামরাই সরকারি হাসপাতালসহ সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। বর্তমানে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে থমথমে অবস্থা। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here