রাজনৈতিক অধ্যায় থেকে সম্মানজনক বিদায় নিতে চান খালেদা জিয়া :সেপ্টেম্বরে মুক্তি চাইবেন খালেদা

0
13

অনলাইন ডেস্ক:আমেরিকা, সৌদি আরব কিংবা লন্ডনে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামী মাসের মধ্যে নিয়ে যেতে ভাবছে বিএনপি পরিবার। চলতি মাসে জামিন বৃদ্ধির আইনি ও কৌশলগত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী মাসের শুরুতে সরকারের কাছে আবেদন করবে তারা। পরিবার ও চিকিৎসকরা চাচ্ছেন খালেদা জিয়ার পূর্ণ সুস্থতা, রাজনীতি নয় ।
গতকাল বিকালে খালেদা জিয়ার পরিবারের নির্ভরযোগ্য সূত্র আমার সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি মাসে তার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করা হচ্ছে না। পরিবার মনে করছে, খালেদা জিয়া সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন চিকিৎসার্থে। কিন্তু করোনার কারণে তার এখনো মূল চিকিৎসা শুরু করা যায়নি। আগের চেয়ে শারীরিক অবস্থারও কোনো পরিবর্তন ঘটেনি তার।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের দাবি— তার যে আধুনিক চিকিৎসা প্রয়োজন তা দেশে সম্ভব নয়। দেশে ভালো চিকিৎসক রয়েছেন কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা সেন্টার নেই। বহু আগ থেকেই তিনি তিনটি দেশে ধারাবাহিক চিকিৎসা নিয়ে আসছেন।
যেখানে আধুনিক সেন্টার রয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ডের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বোন
সেলিনা ইসলাম সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে এ আবেদন করবেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ২৫ মাস কারাভোগ করে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান। বাসায় চিকিৎসা নেবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না— এমন শর্ত ছিলো বলে জানাগেছে।

রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারবেন না— এমন শর্তও ছিলো বলে সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি। সেই আলোকে বেগম খালেদা জিয়া বিগত চার মাস প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে আসেননি এবং দলের নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেননি।

শুধু পরিবারের সদস্যরাই তার সঙ্গে নিয়মিত যোগোযোগ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সকল সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে সিনিয়র কয়েকজন নেতা দূরত্ব বজায় রেখে অল্প সময়ের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদুল আজহার দিন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশানের ফিরোজায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। একসঙ্গে এটিই ছিলো বড় সাক্ষাৎ। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সাক্ষাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। আড়াই ঘণ্টার ওই সাক্ষাতে খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির পদক্ষেপ ও জাতীয় নির্বাচনসহ চলমান নানা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীদের দাবি। এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন দলটির বিশেষ সম্কাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেছেন, আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বিবেচনার প্রতি আমাদের বরাবরই আস্থা ছিলো এবং আছে। ঈদের দিন রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এজেন্ডাবিহীন সংলাপে যাওয়া বিএনপির জন্য ভুল ছিলো বলে তার যে পর্যবেক্ষণের খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে তার সঙ্গে আমিও একমত। এছাড়া দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি— ওই সাক্ষাতে খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জানানো হয়েছে স্কষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। দলের একাধিক সূত্র বলেছে, বেগম জিয়া হয়তো আর রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না, তিনি সম্মানজনক রাজনৈতিক অধ্যায় থেকে বিদায় নিতে চান। এ ব্যাপারে দলকে ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তির পর শর্তের বরখেলাপ করেননি। এজন্য জামিন বৃদ্ধির আবেদন করা হলে সরকার হয়তো কঠিন মনোভাবে থাকবে না। এ মুহূর্তে পরিবার ও চিকিৎসকরা চাচ্ছেন খালেদা জিয়ার সুস্থতা, রাজনীতি নয়।খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্কর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। আবেদন করার পর বিষয়টি দেখা হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে আমার সংবাদকে বলেন, খালেদা জিয়ার এখন মডার্ন ট্রিটমেন্ট দরকার, মডার্ন ডেভেলপ সেন্টারে। বাংলাদেশে অনেক অভিজ্ঞ ডাক্তার রয়েছেন কিন্তু মডার্ন ডেভেলপ সেন্টার নেই। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সুচিকিৎসা প্রয়োজন।
এ মুহূর্তে তাকে আধুনিক সেন্টারে নিতে হবে। প্রয়োজনে আমেরিকা বা তার পরিবার যেখানে সুচিকিৎসা ভালো মনে করেন। সৌদি আরবে আগে চিকিৎসা হয়েছে, আমেরিকায় হয়েছে, চোখের অপারেশন হয়েছে লন্ডনে। উন্নত চিকিৎসা ও মানবিকতায় খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে সরকার সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা করেন।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন,বিশেষ বিবেচনায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন হয়তো পরিবারের পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে করা হবে বলে শুনেছি। আমরা তো সবাই চাই চেয়ারপারসন মুক্ত পরিবেশে থাকুন।
যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনে তিনি মুক্তি পেয়েছেন, মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও নিশ্চয়ই তারা দেখবেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এখন তার যে শারীরিক অবস্থা তাতে উন্নত চিকিৎসা দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here