রৌমারীতে স্কুলের নাম ব্যবহার করে কৃষকের জমি জবরদখল

0
4

অনলাইন ডেস্ক৷।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত চর এলাকায় স্কুলের নাম ব্যবহার করে কাঁচা ধান সহ কৃষকের জমি জবরদখল করেছে প্রতিপক্ষরা। তারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে লাঠিশোটা নিয়ে দুই কাঠা জমির কাঁচাধান কেটে সেখানে একটি স্কুলের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ঘর তুলেছে। অসহায় ঐ কৃষক আব্দুল গনি নিজের ফসলি জমি হারিয়ে গত ৩ দিন ধরে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার অসহায় ওই কৃষক সাংবাদিকদের কাছে তার এ জমি হারানোর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী গ্রামের দরিদ্র ওই কৃষক আব্দুল গণি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে ৭৭ শতাংশ জমি আমরা ভোগদখল করে তার চাষ- আবাদ করে আসছি । এটা আমাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া রেকর্টীয় সম্পত্তি। বর্তমানে ঐ জমিতে পাকার অপেক্ষায় আমন ধান রয়েছে। আকর্ষিক ভাবে গত বৃহষ্পতিবার ঘুঘুমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার লোকজন লাঠিশোটা নিয়ে ঐ জমির কাঁচাধান কাটা শুরু করে। কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, এটা খাস জমি, এখানে স্কুল ঘর করা হবে। আমরা নিষেধ করলেও তারা মানেনি। আমরা গরীব মানুষ আমাদের লোকজনও নাই আর বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করবো সে শক্তিও আমাদের নেই। এ অবস্থায় আমরা থানায় এসে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ একদিন পর ঘটনাস্থলে এসে তাদের ঘর তুলতে নিষেধ করে চলে যায়। কিন্তু ততক্ষনে তিন কাঠা জমির কাঁচাধান কেটে দুটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টানিয়ে একটি ঘরও তোলে তারা।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, ঘুঘুমারী স্কুলের শিক্ষকরা ঘুষ দিয়ে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্ম কর্তার কাছ থেকে খাস খতিয়ানের জমি বলে একটা কাগজ তৈরী করে নেয়। ওই কাগজ তারা থানা পুলিশ ও নিবার্হী অফিসারের কাছে জমা দেয়। এর প্রেক্ষিতে আমরাও আমাদের জমির দলিলপত্র দেখালে উপজেলা প্রশাসন ঘর তুলতে নিষেধ করে। কিন্তু ওই নির্দেশ না অগ্রাহ্য করে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বামী ফরহাদ হোসেন ও তার চাচা মঞ্জু মিয়া ওরফে মঞ্জু মাষ্টার জোরপূর্বক ফসলি জমির কাঁচা ধান কাটার পর এখন মাটি ফেলে উঁচু করার চেষ্টা করছে । এ অবস্থায় আমরা অসহায় কৃষকরা চরম বিপাকে রয়েছি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ঘুঘুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি সাম্প্রতিক নদী ভাঙ্গনে ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খাস জমি খুঁজতে থাকে। কোথাও খাস জমি না পেয়ে দরিদ্র ওই কৃষকের জমিতে হানা দেয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায় । ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, ‘নদীতে স্কুলের ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার পর ঘর উঠানোর কোনো জায়গা ছিল না। ভূমি অফিস থেকে খাস খতিয়ানের জমি দেখিয়ে দেওয়ার পর আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতার্র সঙ্গে কথা বলে ওই জমিতে ঘর উঠানোর উদ্যোগ নেই। কাচাধান কেন কাটা হলো এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষকের স্বামী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ঘর উঠাতে হয় এরজন্য অল্প একটু জমির কাচাধান কাটা হয়েছে। তাছাড়া ওই জমি খাস খতিয়ানের।
এ ব্যাপারে চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ডল বলেন, ‘এভাবে জমির কাচাধান কেটে ঘর উঠানো মোটেও ঠিক হয়নি। তাছাড়া আমরা দেখছি ওই জমির মালিক দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আবাদ করছে। একটা স্কুল করতে ৩৩ শতাংশ জমি লাগে। সেখানে গরীব কৃষকের দখলে থাকা ৭৭শতাংশ জমি জবরদখল করে নেয়া হয়েছে। একজন নিরীহ কৃষকের ওপর এমন জবরদখল মোটেই শোভনীয় হয়নি।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবীর বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে আমরা স্কুলের শিক্ষকদের নিষেধ করে দিয়েছি। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, ‘জমি থেকে কাচাধান কাটার বিষয়টা আমার জানা ছিল না। পরে উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here