১৭ পৌরসভায় আ’লীগ জয়ী, স্বতন্ত্র ৪, বিএনপি ২

0
8

অনলাইন ডেস্ক।।
স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী স্তর পৌরসভায় প্রথম ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিশাল বিজয় পেয়েছেন। সোমবার ২৪টি পৌরসভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৭টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন চারটিতে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন দুইটিতে।

এ ছাড়া খুলনার চালনা পৌরসভায় ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে মেয়র পদপ্রার্থী মারা যাওয়ায় ফল স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ২৪ পৌরসভার ভোটগ্রহণ শেষ হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা চলে ভোটগ্রহণ। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কেন্দ্রে গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চগড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার ধামরাইয়ে ভোটের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান।

সার্বিক বিবেচনায় প্রথম ধাপের ভোটকে ‘সাকসেসফুল’ বলে দাবি করেছেন ইসি সচিব মো. আলমগীর। প্রথম ধাপের ২৪ পৌরসভাতেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হয়। কয়েকটি স্থানে ইভিএম জটিলতায় সমস্যা তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

করোনায় আক্রান্ত খুলনার চালনা পৌরসভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মারা যান ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে। ফলে মেয়র পদের ফল স্থগিতের সিদ্ধান্তত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কার্যালয়ের সচিব। যদিও দুপুরের দিকে বিএনপির পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আরও কয়েকটি পৌরসভায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থীরা অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সীতাকুণ্ড পৌরসভায় ভোটগ্রহণের শুরুতেই একটি কেন্দ্রে গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাবনার চাটমোহরে মেয়র পদের প্রতিদ্বন্ধী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২টার দিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরে যাবার কথা জানান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিএনপির প্রার্থী।

২৪ পৌরসভায় পাঁচটি দল ও স্ব্বতন্ত মিলিয়ে মেয়র পদে ৯৪ প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী ছিল মেয়র পদে। প্রথম ধাপে সব মিলিয়ে প্রার্থী সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৬১ জন। সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ৮০১ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ২৬৬ জন।

প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা থাকলেও গাজীপুরের শ্রীপুরের একজন মেয়র পদপ্রার্থীর মৃত্যু হলে ভোট পিছিয়ে দ্বিতীয় ধাপে নেওয়া হয়। আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৬১ পৌরসভায় ভোট হবে। এর মধ্যে ২৯টি পৌরসভায় ইভিএম এবং ৩২ পৌরসভায় ব্যালটে ভোট নেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় ভোট হবে ৩০ জানুয়ারি। ভোট হবে ব্যালট পেপারে। মহামারীর মধ্যে এবার চার ধাপে পৌর নির্বাচন করছে কমিশন। তার মধ্যে তিন ধাপে ১৫০টি পৌরসভার তফসিল দেওয়া হয়েছে। ফেব্র”য়ারিতে নির্বাচন উপযোগী বাকি পৌরসভার ভোট হবে চতুর্থ ধাপে।

‘ভোট সাকসেসফুল’

ভোটগ্রহণের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে ঢাকায় নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে ইসি সচিব মো: আলমগী বলেন, এখনো পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্টে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচন সাকসেসফুল হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম এবং ইসির মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ি ভোট ভালো হয়েছে। ভোটার উপস্টি’তি অনেক বেশি।

কত শতাংশ ভোট পড়েছে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, কোথাও ৬০ শতাংশের কম ভোট পড়েনি। অনেক স্থানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে।

সীতাকুণ্ড ও পঞ্চগড়ের নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, পঞ্চগড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার গাড়ি যাওয়ার জন্য পুলিশ রাস্তা থেকে লোকজন সরতে বলার কারণে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ভাংচুর হয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সীতাকুণ্ডে দুস্কৃতিকারীরা ইভিএম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা সফল হতে পারেনি। টানাটানিতে ইভিএমের মনিটরটি পড়ে ভেঙে যায়। পরে সেটি রিপ্লেস করে ভোট নেওয়া হয়। ভোটে কোন সমস্যা হয়নি। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধামরাইয়ে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ধামরাইয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম কবির ২৩ হাজার ১১০ ভোট। নিকটতম বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু পেয়েছেন ১ হাজার ৫০৩ ভোট।

বরগুনার বেতাগীতে আওয়ামী লীগের এবিএম গোলাম কবির পেয়েছেন ৫ হাজার ৯১৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হুমায়ূন কবির মল্লিক পেয়েছেন ৫৩২ ভোট।

চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন পেয়েছেন ২১ হাজার ৬৩৩ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুল হক মালিক মজু পেয়েছেন ৭ হাজার ৬০৭ ভোট।

পটুয়াখালী কুয়াকাটায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হাওলাদার পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৩৩ ভোট এবং তার নিকটতম আওয়ামী লীগের আঃ বারেক মোল্লা পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৪ ভোট।

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনির আক্তার খান তরুলোদী ২৯ হাজার ৮৭ ভোট। ধানের শীষ প্রার্থী মাহমুদুল হাসান সজল পেয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

নেত্রকোনা মদন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ৩ হাজার ১৪১ ভোট। নিকটতমত স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন ১ হাজার ৮৬৯ ভোট।

মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমজান আলী ৩১ হাজার ৫৮৫ ভোট। নিকটতম বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান আতা ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৩৩৪টি।

পাবনার চাটমোহরে আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো পেয়েছেন ৬ হাজার ৮১২ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৮৪২ ভোট।

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬ ভোট।

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের বদিউল আলম ১০ হাজার ৭৭১ ভোট। নিকটতম বিএনপির আবুল মনসুর পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০ ভোট।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলম লিটন পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৪৭ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরতুজা সরকার মানিক পেয়েছেন ৭ হাজার ৪০ ভোট।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিএনপির প্রার্থী আল মামুন খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৯২০ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগ প্রার্থী রবিউল ইসলাম পেয়েছেন ৫হাজার ১৬০ ভোট।

রাজশাহীর কাটাখালীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্বাস আলী পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৬৫ ভোট। তার নিকটতম জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান (জগ) পেয়েছেন ৮৫৬ ভোট।

কুষ্টিয়ার খোকসায় স্বতন্ত্র পার্থী ইকরামুল আলম পেয়েছেন ৯ হাজার ১৩৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯০ ভোট।

বরিশাল জেলায় বাকেরগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লোকমান হোসেন ডাকুয়া পেয়েছেন ৭ হাজার ৪১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খলিলুর রহমান ২ হাজার ৪১১ ভোট। উজিরপুরে আওয়ামীলীগের গিয়াস উদ্দিন বেপারী পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. শহিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৭৬৫ ভোট।

কুড়িগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজিউল ইসলাম পেয়েছেন ২০ হাজার ৫৭১ ভোট। নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬৪ ভোট।

রংপুরের বদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৩৩ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র পার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৭৮ ভোট।

পঞ্চগড় পৌরসভায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী জাকিয়া খাতুন ১২ হাজার ৫৬ ভোট। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৭৫ ভোট।

ময়মনসিংহ গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম ইকবাল হোসেন সুমন পেয়েছেন ১২ হাজার ৪১১ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের প্রার্থী শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ১৯০ ভোট।

হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী মো. ফরিদ আহমেদ অলি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪০ ভোট। নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাসুদউজ্জামান মাসুক পেয়েছেন তিন হাজার ১৩৯ ভোট।

ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক পেয়েছেন ৯ হাজার ১৩৩। তার নিকটতম বিএনপির রেজাউল করিম রাজা ২ হাজার ৭৯০ ভোট।

সুনামগঞ্জ দিরাইয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায় পেয়েছেন ৫ হাজার ৯১০ ভোট। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ মিয়া পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৭ ভোট।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here