চীনের অর্থনীতি ২০২১-এ ছাড়াবে ইইউ’র সম্মিলিত জিডিপিকে

0
5

অনলাইন ডেস্ক।।
বিশ্বের বেশিরভাগ অর্থনীতির ক্ষেত্রে করোনা মহামারিটি একটি অস্থায়ী নতুন বিশ্বের সূচনা করেছে, যা অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক আরোগ্য, অস্পষ্ট নীতিমালা এবং অনিশ্চিত ব্যবসা পরিকল্পনা দ্বারা সংজ্ঞায়িত। তবে চীনের বিষয় আলাদা। করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে নজিরবিহীন গতিতে সঙ্কুচিত হয়ে পড়া বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের অর্থনীতির ২০২১ সালে অপ্রচলিত হারে প্রসারণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, দেশগুলোর তুলনায় ২০২১ সালে চীনের অর্থনীতি ২০১৯ সালের মতোই সম্প্রসারিত হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটাই জানিয়েছে দ্য ইকোনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তারা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী বছর নাগাদ চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এতটাই বৃদ্ধি পাবে যে, মনে হবে করোনাভাইরাস মহামারি কখনও ঘটেইনি এবং ২০২১ সালে চীনের জিডিপি প্রায় ১৫.৮ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে, কোভিড-১৯ অপেক্ষাকৃত ভালভাবে অর্থনৈতিক পরিচালনা ঘটেছে এমনদেশগুলোসহ জাপান ও জার্মানির মতো অন্যান্য বড় দেশের অর্থনীতিও আগামী বছর নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিকে ফিরতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালে বা এর কাছাকাছি সময়ে চীনের অর্থনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মিলিত জিডিপিকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালে করোনা মহামারির মধ্যেও হালকাভাবে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। অতএব, চীনের প্রবৃদ্ধির ৮ শতাংশ হার কাউকে অবাক করবে না। কিছু প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে, এটি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের প্রবৃদ্ধির হারের তুলনায় এ সংক্ষিপ্ত প্রত্যাবর্তনটি এতটা উল্লেখযোগ্য না হলেও এ দ্রæত পুনরুদ্ধারের অর্থ হ’ল, ২০২১ সালের জন্য চীনের জিডিপি প্রাক-মহামারি পূর্বাভাসের কাছাকাছি থাকবে।

করোনাকালীন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সমান হারে না ঘটলেও চীনের রফতানি শিল্প বিশ্ববাজারে রেকর্ড শেয়ার অর্জন করেছে। দেশটির রফতানিকৃত ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, মাস্ক, স্যানিটাইজার, টেলিভিশন এবং কনজুমার ইলেকট্রনিক্স। পাশাপাশি, চীনের অর্থনীতি অবকাঠামো এবং সম্পত্তিতে শক্তিশালী বিনিয়োগ দ্বারাও সমর্থিত। অন্যান্য দেশের বিপরীতে করোনাভাইরাস দেশটির অর্থনীতিটিকে একটি পরিচিত নীতিমালায় ফিরিয়ে দিয়েছে। সেকারণে, ২০২১ সালের চীনের জিডিপির পরিসংখ্যানগত ভবিষ্যদ্বাণীতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সূত্র : দ্য ইকোনোমিস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here