সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দাবি

0
8

অনলাইন ডেস্ক।

করোনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাত কলেজের কর্তৃপক্ষ। গত ২৬ ডিসেম্বর সাত কলেজের সমন্বয়ক ও কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিমুল্লাহ খোন্দকার এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানান।

স্থগিত পরীক্ষা নেয়ার নোটিস দেয়ার পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি জানাচ্ছেন তাদের একাডেমিক সিলেবাস কমানো ও নিজ কলেজেই পরীক্ষাগুলো নেয়া হোক। যেহেতু করোনার ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে সে ক্ষেত্রে নিজ কলেজেই পরীক্ষা হলে সুবিধা হবে বলে ভাবছেন শিক্ষার্থীরা।

দেশে গত ১৭ মার্চ থেকে করোনা মহামারির ফলে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে স্থগিত হয়ে যায় কয়েকটি সেশনের ফাইনাল পরীক্ষা। দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার না কমলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার কষ্ট বাড়ছে।

কয়েকটি সেশনের মধ্যে জট লেগে আছে তীব্রভাবে। ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও অর্নাস শেষ করতে পারেনি ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরা। করোনার ফলে কয়েকটি সেশনের একাডেমি সিলেবাস ও শেষ হয়নি আশানুরূপ। যেহেতু স্থগিত পরীক্ষাগুলোর নির্দেশনা এসেছে সে ক্ষেত্রে সিলেবাস কিছুটা কমিয়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য লিখিত আবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কে তিতুমীর কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী রাতুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে অনেক শিক্ষার্থীই নিজের গ্রাম বা শহরের বাসা থেকে তেমন বের হয়নি।

তাছাড়া সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বই কিনতে পারেনি লকডাউনের সময়। আবার অনলাইন ক্লাসও তেমন হয়নি, তাছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুযোগ-সুবিধা ছিলো না। যার ফলে তারা সিলেবাস শেষ করতে পারেননি।

তাই সব কিছু বিবেচনায় এনে সিলেবাস অর্ধেক করে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা হবে সে ক্ষেত্রে নিজ কলেজে পরীক্ষাগুলো হলে ভালো হবে।’

কবি নজরুল সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী তানবির বলেন, আমাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ হলো ২০২০ সাল পর্যন্ত। আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তবুও অনার্স শেষ হচ্ছে না। আমরা এখনো দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে আছি। দীর্ঘ দিন পর পরীক্ষা নোটিস পেলাম।

যেহেতু করোনার ফলে আমাদের সিলেবাস ঠিকমতো শেষ হয়নি, সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার সিলেবাস কমানো গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হবে। তা না হলে ফলাফলে ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাত কলেজের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাদের এই দিকটি বিবেচনা করা হোক। আমরা ইতোমধ্যে বিভাগে লিখিতভাবে আবেদন করার উদ্যোগে নিয়েছি।’

এ সম্পর্কে সাত কলেজের সমন্বয়ক প্রফেসর আই কে সেলিমুল্লাহ খোন্দকার এক বিবৃততে বলেন, ‘যেকোনো বিষয়ে আবেদন জানাতে বা অভিযোগ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে লিখিতভাবে নিজ নিজ কলেজের অধ্যক্ষকে বলতে হবে।

কারণ, একাডেমিক, সিলেবাস সংক্রান্ত অনেক বিষয় যা অধ্যক্ষদের সবকিছু জানা সবসময় সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট আবেদন যদি সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ যথাযথ মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান বা সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সভায় তা উপস্থাপন করেন। এটি সবাই যথাযথ মনে করলে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের পক্ষে সমন্বয়কারী হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করি বা অনুরোধ করার চেষ্টা করি।

তবে সাংগঠনিকভাবে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে সে বিষয়ে আমরা সাত কলেজের অধ্যক্ষের সভা করে একমত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে আনি। সমাধানের চেষ্টা করি। শিক্ষার্থীরা যদি এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করে তাহলে আমরা আবেদন যৌক্তিক কি-না ভেবে দেখবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here