হাথরসে ফের ধর্ষণ! এবার চারের কন্যাকে, ধৃতদের বয়স ৯ ও ১২

0
9

অনলাইন ডেস্ক।
উত্তরপ্রদেশের হাথরস জেলা যোগী প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রায় একমাস আগে হাথরসে দলিত তরণীর গণধর্ষণের ঘটনা যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে যথেষ্ট বিব্রত করেছে। চারপাশ থেকে সাঁড়াশি চাপে সিবিআইয়ের হাতে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ-খুনের মামলার তদন্তভার তুলে দিয়েও স্বস্তিতে নেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কারণ, তার পরেও একাধিকার খবরের শিরোনামে হাথরস।

দলিত তরুণীর গণধর্ষণের পরেও হাথরসে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। বেআইনি অস্ত্র কারাখানার হদিশও সামনে এসেছে। এমতবস্থায় হাথরসে ফের আর একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়, জেলা প্রশাসনের উপর চাপ এসে পড়ছে। উল্লেখযোগ্য হল, জেলায় সর্বশেষ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দু-জনের বয়স মোটে ৯ ও ১২ বছর। এই দুই ধর্ষকের বয়সে পুলিশ মহলেরও টনক নড়েছে।

নাবালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে একাধিকবার ঘটেছে। কিন্তু, কৈশোরে পা দিতে না দিতেই এমনকী তারও আগে মাত্র ৯ বছর বয়সে কেউ ধর্ষণের মতো ঘটনায় লিপ্ত হতে পারে, পুলিশ মহলকেও তা অবাক করেছে। হাথরসের এই দুই নাবালকের বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক শীর্ষকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারই হাথরস জংশন থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা। তার প্রেক্ষিতে দুই নাবালককে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: মুম্বই পুলিশের সম্পর্কে হীন ধারণা তৈরির অভিসন্ধি, রিপাবলিক টিভির সম্পাদকীয় টিমের বিরুদ্ধে FIR!

পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, যৌন নিপীড়িত শিশুকন্যা ও ধর্ষণে অভিযুক্তরা একই গ্রামের। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলিতে ইতিমধ্যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিন শিশুকন্যার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়। যদিও, মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও জানা যায়নি।

১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরসে গণধর্ষণের শিকার হন বছর উনিশের এক তরুণী। উচ্চবর্ণের চার জনের বিরুদ্ধে ওই দলিত তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আবার নাবালক। পৈশাচিক অত্যাচারের জেরে ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মারা যান ওই দলিত তরুণী। তার পর থেকেই খবরের শিরোনামে উত্তরপ্রদেশের এই জেলা। পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাতের অন্ধকারে ধর্ষিতার দেহ পুলিশ পুড়িয়ে দেওয়ায়, চারপাশ থেকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যোগীর পুলিশকে। উচ্চবর্ণের অভিযুক্তকে পুলিশ আড়াল করতে চাইছে, এমন অভিযোগও ওঠে।

এই ঘটনায় চারদিকে তোলপাড় শুরু হওয়ায়, সিট গঠন করতে বাধ্য হন যোগী আদিত্যনাথ। পরে সিদ্ধান্ত বদলে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেন হাথরস গণধর্ষণ মামলা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। মূল অভিযুক্ত-সহ চার জনকে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় জেরাও করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদেরও তাঁরা জিগ্যাসাবাদ করেছেন। সিবিআই প্রথম জানায়, এই মামলায় এক অভিযুক্ত নাবালক। হাথরস জেলা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য এড়িয়ে গিয়েছিল।
সুত্র: এই সময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here