পিয়ন থেকে যুবলীগ নেতা, কে এই আনিস

0
6

পিয়ন থেকে যুবলীগ নেতা, কে এই আনিস?

 নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১১:৩৩, অক্টোবর ১১, ২০১৯

কাজী আনিসুর রহমান আনিস। সংগঠনের পরিচয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের জরুরি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ভাবড়াসুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ফায়েকুজ্জামান (ফায়েক কাজী) কাজীর চার সন্তানের মধ্যে বড় পুত্র তিনি।

তার বাবা সেনাবাহিনীর সৈনিক ছিলেন। ১৯৯৪ সালে অবসর নেন। পেনশনে প্রায় সাত লাখ টাকা পেয়ে কিছু জমি ক্রয় করেন। পরে কিছু বিক্রিও করে দেন। আনিসের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, আগে ছয় বিঘা জমি ছিল। তবে গত ৪ বছরে আরও জমি ক্রয় করেছি। বাড়ি করেছি, পেট্রলপাম্প এবং তার পাশের জমি ক্রয় করেছি। সবই আল্লাহ্ দান।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আনিস ২০০১ সালে ঢাকায় এসে প্রথমে গার্মেন্টেসে চাকরি নেন। এরপর ২০০৫ সালে এলাকার এক নেতার মাধ্যমে চাকরি পান যুবলীগের কার্যালয়ে। অফিসের পিয়নের কাজের পাশাপাশি কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করতেন তিনি।

এতে করে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি কার্যালয়ে আসা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গেও পরিচয়ের সুযোগ হয় তাঁর। কম্পিউটারে নিয়মিত সারাদেশের সব যুবলীগ কমিটির তালিকা তৈরি করতে গিয়ে সব তথ্য তাঁর নখদর্পণে চলে আসে। মুখস্থ বলে দিতে পারতেন যেকোনও কমিটির নেতার নাম। এসব কারণেই চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হয়ে যান তিনি।

প্রায় সাত বছর পর বনে যান কেন্দ্রীয় যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক। তিনি এখন কয়েকশ কোটি টাকার মালিক। একাধিক গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিক সে।

আনিসের গ্রামের এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়িতে একটি মাত্র টিনের ঘর ছিল। চার বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। মনে হয়, আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতা বলেন, ২০১২ সালে যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের সময় তিনি নিজেও আনিসকে একটা সদস্যপদ দিতে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু আনিস পেয়ে যান উপ-দপ্তর সম্পাদকের পদ। দপ্তর সম্পাদক পদটি শুরু থেকেই খালি ছিল, ছয় মাসের মধ্যেই সেটাও পেয়ে যান।

যুবলীগের তিনজন নেতা জানান, আনিস থাকতেন টিকাটুলী এলাকায়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার পর চেয়ারম্যানের কাছাকাছি থাকার জন্য ধানমন্ডিতে ভাড়া বাসা খোঁজেন। কিন্তু ভাড়া না নিয়ে ১৫ নম্বর সড়কে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করে নেন।

নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, মালিক এখানে থাকেন না, ভাড়াটে থাকেন। রাজধানীর ধানমন্ডির ১০/এ সড়কের এক বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। ফ্ল্যাটটি আনিসুর রহমানের নিজের। প্রতিদিন শত শত নেতাকর্মী গাড়ি, মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁর সঙ্গে এখানে সাক্ষাৎ করতে আসেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আনিস যুবলীগের পদ পাওয়ার পরই তাঁদের উত্থান শুরু। পেট্রলপাম্প প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন। পাশেই ৫ একর জায়গা আছে তাঁদের কেনা। এছাড়া ঢাকায় আনিসের তিনটি বাড়িতেই তিনি গেছেন।

সম্পদের বিবরণী পেয়ে তাঁর অর্থের উৎস সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, চাঁদাবাজি, দরপত্র থেকে কমিশন ও যুবলীগের বিভিন্ন কমিটিতে পদ-বাণিজ্য করেই বিত্তবৈভব গড়ে তুলেছেন কাজী আনিস।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন যুবলীগ নেতা বলেন, আনিসের বিরুদ্ধে কথা বলে টেকা জটিল। বিভিন্ন ইউনিটে বছরের পর বছর সম্মেলন না করে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চালানো হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে এসব আহ্বায়ক কমিটি বানানো ও দীর্ঘদিন বহাল থাকার সুযোগ করে দিতেন আনিস। আনিসের দাপটে পুরোনো অনেক নেতা যুবলীগে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here