চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ।।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার শাপলা কলিপাড়ার বাসিন্দা লিটন মিয়া (৫৫) এক ডজন বিয়ে করেছেন। বর্তমানে আগের স্ত্রী একটাও নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের এক মাস পরই লিটন মিয়া যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে স্ত্রীরা তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এভাবে তিনি এক ডজন বিয়েও করেছেন, আবার স্ত্রীরা তাকে তালাক দিয়ে চলেও গিয়েছেন। লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে সর্বশেষ স্ত্রী নাজমুন নাহারের ওপর নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।আজ সোমবার ভুক্তভোগী নাজমুন নাহার যশোরের চৌগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী নাজমুন নাহার অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২৭ মে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
অভিযোগে তিনি আরও বলেছেন, জীবননগর উপজেলার শাপলা কলিপাড়ায় বসবাসরত প্রয়াত আনসার আলীর ছেলে লিটন মিয়া প্রায় এক বছর আগে যশোরের চৌগাছা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের নাজমুন নাহারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৭ মে লিটন মিয়া তাকে যৌতুকের দাদিতে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে নিজেই তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসেন। সেখানে গিয়েও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমুন নাহার।
ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, লিটন তার সঙ্গে বিয়ের সময় আগের বিয়েগুলোর কথা গোপন করেছেন। পরে তিনি জানতে পারেন লিটন এর আগে এক ডজন বিয়ে করেছে।
তবে অভিযুক্ত লিটন মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ৬ থেকে ৭টা বিয়ে করেছি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অন্য স্ত্রীগুলোর মধ্যে কোনোটা আমি তালাক দিয়েছি, আবার কেউ কেউ আমাকে তালাক দিয়ে চলে গেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘লিটন প্রায় এক ডজনের বেশি বিয়ে করেছেন এবং অন্য স্ত্রীদেরকে নির্যাতন করার কারণে তারা লিটনকে ছেড়ে চলে গেছে। তবে লিটন বিয়ে করার নেশায় পড়েছে।’
শাপলাকলি পাড়ার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, লিটনের ভাইয়েরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি পার পেয়ে যায়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী স্ত্রী নাজমুন নাহার জানান, নির্যাতনের ব্যাপারে তারা যশোরের চৌগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’