“প্রস্তাবিত বাজেটের প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মোকাবেলায় দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সরকারী অর্থের অপচয় রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য বড় বাজেট বাস্তবায়নে কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা অত্যান্ত জরুরী। বড় বাজেট দিয়ে আবার যদি কোনো কারণে ২০-৩০ শতাংশ লোপাট হয়ে যায়, তাহলে তো কোনো লাভ হয় না। বাজেট যে যে কাজে ব্যবহার করা হবে, সততার সঙ্গে প্রয়োজন যতটুকু, ততটুকু যেন স্ব স্ব বিভাগ ব্যবহার করে, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা” বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারের ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমাতে বিশেষ করে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য হ্রাস, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা ও চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি ও লবণের মতো ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎস কর হ্রাসের ফলে জনমনে কিছুটা হলে সস্থি প্রদান করেছে।”

নেতৃদ্বয় “চিকিৎসা ব্যায় কমানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ সাশ্রয় করতে বাজেটে নজর দেয়া ও কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে সব ধরনের কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, হার্টের রিংয়ের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের লেন্সের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো, ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ এবং ওষুধ তৈরীর মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব এবং একই সাথে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রেলভাড়ায় বিশেষ ছাড় চালু করার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। একই সাথে দেশের নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতকে গতিশীল করতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে উৎসে কর কর্তনের হার কমানোর প্রস্তাব, কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের প্রস্তাবকেও স্বাগত জানানো হয়।”

তারা বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য। তবে, বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সুশাসন ও যথাযথ তদারকি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে হবে।”

নেতৃদ্বয় বলেন, “শুধু প্রধামন্ত্রীর উপর দায় না চাপিয়ে প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে সততার সাথে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের অর্থ আকাশ থেকে আসে না। জনগণের কষ্টের টাকা, ঘামের টাকা। প্রত্যেকটি টাকার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে, দেশ ও মানুষের কল্যাণে। দেশবাসী গত ফ্যাসীবাদী শাসকদের মত দেশের টাকা অতীতের মতো আবার নয়ছয় হোক তা দেখতে চায় না। আগামীর বাংলাদেশে রাষ্ট্রের একটি কানাকড়িও কেউ নয়ছয় করুক, এটি দেশবাসী দেখতে চান না।”