স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিশ্ব ফুটবলের দুই ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্বকারী ব্রাজিল ও মরক্কো এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। সাম্বা ফুটবলের ঐতিহ্য, মরুভূমির সাহসিকতা এবং বিশ্বকাপের উত্তেজনা মিলিয়ে নিউ ইয়র্কে অপেক্ষা করছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করবে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে।
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘সি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। বিশ্বকাপে দুই দলেরই এটি প্রথম ম্যাচ হওয়ায় তিন পয়েন্টের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস অর্জনের লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিলের জন্য আলাদা আবেগ। ফুটবল কিংবদন্তি পেলে, রোনালদো ও রোনালদিনহোর উত্তরাধিকার বহন করা দলটি এবারও মাঠে নামছে ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে।
তবে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় নেইমারের অনুপস্থিতি। ইনজুরির কারণে তিনি পুরোপুরি ফিট নন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু মরক্কো ম্যাচ নয়, গ্রুপ পর্বের পুরো অংশেই তাকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য নকআউট পর্বে শতভাগ ফিট অবস্থায় নেইমারকে পাওয়া।
যদিও নেইমার না থাকলেও ব্রাজিলের তারকাখচিত স্কোয়াড আত্মবিশ্বাসী। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইস এবং মারকুইনিওসদের নিয়ে গড়া দলটি এখনো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। দ্রুতগতির আক্রমণ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ব্রাজিলকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
অন্যদিকে, মরক্কো মাঠে নামছে সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে তারা বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছিল।
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে গড়া বর্তমান মরক্কো দলটি আগের চেয়ে আরও অভিজ্ঞ ও পরিণত। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সংগঠিত রক্ষণভাগ, শক্তিশালী মিডফিল্ড এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ। মরক্কোর লক্ষ্য শুধু ভালো ফুটবল খেলা নয়, বরং প্রমাণ করা যে কাতার বিশ্বকাপের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একটি জয় যেমন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে, তেমনি একটি পরাজয় পুরো টুর্নামেন্টের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।
সেই কারণে নিউ ইয়র্কের এই ম্যাচ শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের লড়াই নয়; এটি দুই দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরিকল্পনা এবং মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। একদিকে ব্রাজিল ষষ্ঠ তারকার সন্ধানে এগোতে চায়, অন্যদিকে মরক্কো নতুন আরেকটি ইতিহাস রচনার স্বপ্ন দেখছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মরক্কোর দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন রোনালদো, রিভালদো এবং বেবেতো।
তবে সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান এখন অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ। এখন পর্যন্ত তিনবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্রাজিল জিতেছে দুই ম্যাচ এবং মরক্কো একটি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেলেসাওদের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় মরক্কো।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাচটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, প্রথম ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরং এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণে এই ম্যাচ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মরক্কো সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, মরক্কো বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সংগঠিত ও কঠিন প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে ব্রাজিলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, আমাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। ব্রাজিলের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় রয়েছে, বিশেষ করে উইংয়ে। তবে আমরা এখানে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে এসেছি। কোনো প্রতিপক্ষকে ভয় পাই না, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।
ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং মরক্কোর উত্থান এই ম্যাচকে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। তাই নিউ ইয়র্কের আলোয় অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারেন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর একটি।
ব্রাজিল কি নেইমার ছাড়া জয় দিয়ে শুরু করবে হেক্সা মিশন, নাকি মরক্কো আবারও বিশ্বকে চমকে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়বে?