অনলাইন ডেস্ক।।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন থেকে ছয় লেন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস টার্মিনালে এক জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এয়ারপোর্ট থেকে আসার পথে আমি সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম যে এই সোজা রাস্তাটা কোথায় গেছে? তখন সালাহউদ্দিন সাহেব বললেন, এই রাস্তাটা সোজা চলে গেছে চট্টগ্রামে। আমি তখন তাকে বললাম, এই রাস্তা তো আজকে থেকে ২৫ বছর আগে যা দেখে গেছি আজকেও তো একই রকম রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এই যে সোজা রাস্তাটি চলে গেছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তাটিও আগামী দিনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তাটি অন্ততপক্ষে চার থেকে ছয় লেন হওয়া উচিত। এই রাস্তার কাজ আমরা ইনশআল্লাহ দ্রুতই হাত দিব। চট্টগ্রাম টু কক্সবাজারের যেই রাস্তাটি সেটি আমরা চার থেকে ছয় লেন করব ইনশাআল্লাহ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। মাতারবাড়ি পোর্ট কয়েকদিন পর চালু হবে। আমরা একনেকে পাস করেছি আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী যে রাস্তাটা এটিকে আমরা ইনশাল্লাহ বড় করব।’

মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা উদ্বোধন করে জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী জনগনের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। জনসভাটি হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রুপ নেয়।

‘জনসভায় বিলম্বের কারণ বললেন প্রধানমন্ত্রী’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই। আলহামদুলিল্লাহ …. অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন তাই না। আসলে অনেকক্ষণ ধরে আপনারা অপেক্ষা করছেন সেই বিকালবেলায় আসার কথা। কিন্তু এই যে আপনারা অনেকক্ষণ ধরে যেমন অপেক্ষা করছেন… সেই কক্সবাজার এয়ারপোর্ট থেকে নামার পরে পেকুয়াসহ যেখানে যেখানে গেছি প্রত্যেকটা জায়গায় এই আধা মাইল পরপর মানুষ অপেক্ষা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব মানুষের সাথে একটু হাত নেড়ে আসতে হয় তাই না? না হলে তো তাদেরও মন খারাপ হবে। কাজেই এরকম করতে করতে দেরি হয়ে গেল। সকল মানুষের সাথে একটু কথা বলে তাদেরকে হাত নেড়ে আসতে আসতে দেরি হয়ে গেল।’

‘লবন চাষী প্রসঙ্গে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ বহু মানুষ কৃষক আছেন। কৃষকের মধ্যে অনেকেই আছেন কেউ ধান চাষ করেন, ধানের কৃষক। কেউ মৎস চাষ করেন, মৎস কৃষক, কেউ লবণ উৎপাদন করে লবণ চাষী। এই এলাকার বহু মানুষ লবণ চাষে সম্পৃক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগে আমি যখন পত্রিকায় খবরটি পড়লাম যে কৃষক লবণ চাষী তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে পায় না। তখন আমি তখন আমি কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দিলাম যে, আপনারা বসেন, বসে বের করেন কিভাবে আমরা কৃষকদেরকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সঠিকভাবে দিতে পারি?ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি দাম নির্ধারণ করব যাতে চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায়।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সবসময় কক্সবাজারের মানুষজন ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এটি জনগনের পক্ষের বাজেট’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে আমরা কী করেছি? সাধারণ নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের ওপর কর উঠিয়ে নিয়েছি। এই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, নুন, লবণ এই যে জিনিসগুলো মসলা এইগুলোর ওপরে আগে যে ট্যাক্স ছিল, সেই ট্যাক্স আমরা উঠিয়ে নিয়েছি; যাতে করে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে বাজেটে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট কি জনগণের পক্ষের বাজেট-না বিপক্ষের বাজেট? জনগণের পক্ষের বাজেট।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কিডনি রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ওষুধপত্র থেকে চিকিৎসা সামগ্রির ওপর থেকে কর হ্রাস, হৃদরোগের চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত সরঞ্জামাদির ওপর থেকে ট্যাক্স বাতিলের ফলে চিকিৎসা খরচ কমে আনা, চোখের ছানি অস্ত্রোপচারে সংশ্লিষ্ট লেন্সের ওপর কর বাতিল প্রভৃতি বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে জনগণের পকেট থেকে যে আগে যেখানে এক লাখ টাকা খরচ হতো, সেখানে যদি এখন অর্ধেক টাকা খরচ হয় তাহলে লাভটা কার হলো? জনগনের লাভ হলো। তাহলে এই যে জনগণের খরচটা কমে গেল, চিকিৎসার খরচটা কমে গেল এটা কি জনগণের পক্ষের হলো না বিপক্ষের হলো ভাই? পক্ষের হলো।’

প্রস্তাবিত বাজেটের বিপক্ষে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা মদের ওপরে ট্যাক্স বাড়ানোতে প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের ওপরে ট্যাক্স বাড়লে প্রতিবাদ জানায় তারা কি জনগণের জন্য রাজনীতি করে? তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগেও দেখেছি এরা জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে। আপনারা দেখেছিলেন না। এখন আর টিকিট বিক্রির কথা বলে না। কেন বলে না কারণ ওই টিকিটের দেওয়ার মালিক বা ক্ষমতা তাদের নেই। তারা জনগণকে ঠকিয়ে শুধু জনগণের ভোটটা নিতে চেয়েছিল, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। এরা জনগনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।’

‘প্রতি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ বেড হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে… ৫০ বেডের স্বাস্থ্য উপজেলা কমপ্লেক্স আছে… সেটিকে আমরা ১০০ বেডে রূপান্তরিত করবে। যাতে করে বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ, উপজেলার মানুষ, পৌরসভার মানুষ যাতে দূরে যেতে না হয়, চট্টগ্রামে যেতে না হয়, ঢাকায় যেতে না হয়। যাতে করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই যাতে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা তারা পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটে আমরা এট খাতে অর্থ বরাদ্দ করেছি, যাতে করে আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ বেডে আমরা রূপান্তরিত করতে পারি। এইটি কি বাংলাদেশের মানুষের জন্য? স্বার্থের পক্ষে নাকি স্বার্থের বিরুদ্ধে? স্বার্থের পক্ষে। বাজেটের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করছে, রাজপথে বাজেটের বিপক্ষে কথা বলছেন; তারা স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলে।’

সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বক্তব্য দেন। এ ছাড়া জনসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।