ফিরোজ হোসেন বদলগাছী, (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে প্রশাসনের নজরদারি ও কৃষি অফিসের কার্যকর তদারকির অভাবে অব্যাহতভাবে সরকারি বরাদ্দের সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তৎপরতায় এবার হাতেনাতে আটক হয়েছে এক ডিলারের প্রতিনিধি। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে জরিমানা করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে- এ ধরনের পাচার দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে কীভাবে?
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বদলগাছী সদরে অবস্থিত নাহার ট্রেডার্স থেকে অবৈধভাবে রাসায়নিক সার পাচারের সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে একটি ভটভটি (স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘লছিমন’) যোগে পাশের উপজেলা মহাদেবপুরের মাতাজীহাট সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় পলিথিনে মোড়ানো সার বোঝাই গাড়িটি আটক করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, আটককৃত গাড়িতে মোট ১৩ বস্তা রাসায়নিক সার পাওয়া যায়। বিষয়টি জানানো হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তা সজল সরকার সঙ্গীয় কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারবোঝাই গাড়িটি জব্দ করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে যান।
পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত ডিলার মালিক শাহিন আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, “স্থানীয়রা সারের গাড়িটি আটক করে আমাদের খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করি এবং ইউএনও মহোদয়ের কার্যালয়ে নিয়ে আসি। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ডিলার শাহিন আলমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে জবাব চাওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলগাছীতে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি উপকরণ, বিশেষ করে সার পাচারের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময় পাশের উপজেলাগুলোতে সরকারি বরাদ্দের সার পাচার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, স্থানীয়দের তৎপরতায় যদি সারবোঝাই গাড়ি আটক হয়, তাহলে কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থার ভূমিকা কোথায়? নিয়মিত তদারকি থাকলে সরকারি কৃষি উপকরণ পাচারের মতো ঘটনা আদৌ ঘটত কি না- এমন প্রশ্নও উঠেছে জনমনে।
এ ঘটনায় বদলগাছী উপজেলায় কৃষি বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার ও সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।