ফিরোজ হোসেন বদলগাছী, (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে সরকারি খাস খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং সরকারি রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিএনপি দলীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায় করছে, ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বদলগাছী হাট ও বাজার (গভঃ একোয়ার্ড স্টেট হাট) খাস খাজনার আওতাভুক্ত হলেও উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকির অভাবে সরকার দলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও তাদের অনুসারীরা খাজনা আদায় করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রাইহান গিটারের লোকজন হাটে বিভিন্ন খাত থেকে খাজনা আদায় করছেন। তবে হাটের কোথাও সরকার নির্ধারিত খাজনার হার বা মূল্য তালিকা টানানো হয়নি, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসেবে কাঁচামাল ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও হাটে ৪২ থেকে ৪৩ কেজিতে এক মণ হিসেবে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, ৪২ কেজিতে মণ নিয়েছে এবং মণপ্রতি ২০ টাকা করে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি মূল্যতালিকা টানানো না থাকায় ইজারাদারেরা ইচ্ছামতো পণ্য এবং খাজনা আদায় করছে।
আরেক কৃষক আঃ মতিন বলেন, আমার কাছেও ৪২ কেজিতে মণ এবং মণপ্রতি ২০ টাকা খাজনা নিয়েছে। একে তো উৎপাদিত পণ্যের দাম কম। তার উপর ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ আমাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না, আমরা বর্তমানে লোকসানে আছি।

খাজনা আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবু আল আশারী নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, “হাটটি খাস আদায়ের আওতাভুক্ত। তবে আবু রাইহান গিটার অফিস থেকে লীজ নিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি।

এ বিষয়ে আবু রাইহান গিটারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবো।” এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বদলগাছী হাটে খাস আদায়ে সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি ছিলনা কিন্তু বিএনপি দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত থেকে খাজনা আদায় করা হয়েছে এবং হাটে মূল্য তালিকা টানানো হয়নি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে খাস আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বলেন, আমি ছোট কর্মচারী- খাস আদায় এবং চার্ট টানানোর বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাতে পারবো।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, হাট-বাজার ইজারা ও খাস আদায় সম্পর্কিত বিষয়গুলো ইউএনও অফিসের সিদ্ধান্ত, তাই এসব ব্যাপারে ইউএনও মহোদয় বলতে পারবেন।

অন্যদিকে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “বদলগাছী সদর হাট ও বাজারে খাস খাজনা আদায় করা হচ্ছে। খাজনা আদায়ের সময় সরকারি কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল না। সেখানে বিএনপি দলের নেতা-কর্মীরা খাজনা আদায় করছে এবং খাজনা আদায়কারী একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারি উপজেলা বিএনপি’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রায়হান গিটারের লোকজন খাজনা আদায় করছে এবং হাট নিয়ন্ত্রণ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ রকম হওয়ার কোনও সুযোগ নেই এবং এবিষয়ে আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, বদলগাছীর হাট-বাজারে খাস আদায়ে সহকারী তহশিলদার দায়িত্বে আছেন। আর মূল্য তালিকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আগামী মাসের মধ্যে মূল্য তালিকা টানানো ব্যবস্থা করা হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নামমাত্র অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেখিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।