গাংনী প্রতিনিধি।।

মেহেরপুরের গাংনীতে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। দিন-রাত মানুষের মধ্যে সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষের শয়নকক্ষেও মিলছে সাপের দেখা। গত শনিবার রাতে বিষধর সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিষধর সাপ দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম এলেই গাংনীতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে যে সাপগুলো দেখা যাচ্ছে, তা পাঁচ-সাত বছর আগেও দেখা যেত না। স্থানীয়রা বলছেন, এগুলো অত্যন্ত বিষধর। সাপগুলোর মধ্যে কালাচ, চন্দ্রবোড়া ও পদ্মগোখরা অন্যতম। গত সোমবার একজনের বাড়ির গেটের সামনে বিষধর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মো. তামিম হোসেন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গত সোমবার বাড়ির গেটের সামনে একটি সাপ দেখতে পাই। লোকজন বলছে এটি কালাচ বা চন্দ্রবোড়া। প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম, পরে লোকজন ডেকে সাপটি মেরে ফেলি। সাপটি মারার পর থেকে আমার মনে এখন সাপের আতঙ্ক কাজ করছে।

সাপ ধরার কাজে নিয়োজিত মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে তিনি প্রায় সাড়ে ৩০০ পদ্মগোখরা সাপ ধরেছেন। গত এক সপ্তাহেই ধরেছেন প্রায় ১০০টি সাপ। তিনি ৩২ বছর ধরে এ পেশায় আছেন এবং সাপ ধরার কৌশল তার বাবার কাছ থেকে শিখেছেন। ধরা পড়া জীবিত সাপগুলো তিনি সাপুড়েদের কাছে দিয়ে দেন।

সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার বিষয়ে মো. মোমিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষ এখনো কবিরাজ বা ওঝার কাছে গিয়ে ঝাড়ফুক করায় বিশ্বাসী। এটা ঠিক নয়। সাপে কাটা রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে এন্টিভেনম দিতে পারলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। ঝাড়ফুকের ওপর ভরসা করে সময় নষ্ট করা একদম উচিত নয়।”

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক বলেন, “সাপে কাটার পর অধিকাংশ পরিবার রোগীকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করে। সচেতনতার অভাবেই সাপে কাটা রোগী মারা যায়। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুত আছে। দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।