স্পোর্টস ডেস্ক : চলতি বিশ্বকাপে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার দুই সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগেই এই ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান লরেনৎসো ও হুরাকানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে আটলান্টায়। মাঠের বাইরের এই সহিংসতা শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যই নয়, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভাবমূর্তির জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

দ্য টেলিগ্রাফ এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনার পতাকা উত্তোলনের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। পরে সেটি প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে সমর্থকেরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুরাকান সমর্থকদের প্লাজা হোসে সি. পাস শাখা এবং সেবাস্তিয়ান পেরোনের নেতৃত্বাধীন পাগোলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে ছিল ‘লা বুত্তেলের’ নামের একটি বিতর্কিত সমর্থক গোষ্ঠী, যাদের বিরুদ্ধে অতীতেও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। স্টেডিয়ামে আলাদা গ্যালারিতে টিকিট বরাদ্দ থাকলেও শহরের রাস্তায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি এমনিতেই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তার ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনায় আটলান্টা পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।