দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা ও পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরে এবং বড়বাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা এনসিপি।
পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের মানুষ কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ভোট দেয়নি; তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তির প্রতি আস্থা রেখেই ভোট দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশার পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করবে না।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আপনার আমার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে হরণ করেছে। বিএনপি সরকার ঠিক একইভাবে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য নীলনকশা শুরু করেছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা আর কোনো রাজনৈতিক দলের তাঁবেদার হয়েন না। ‘জনগণ যাদের রেড কার্ড দেখিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক করে বসিয়েছে।’ সামনে যে রাজনৈতিক লড়াই, সেটি কেবল দলীয় প্রতিযোগিতা নয়; বরং ন্যায় ও অন্যায়, শোষণ ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানের লড়াই। জনগণই ঠিক করবে কারা তাদের আস্থা অর্জন করবে। এনসিপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে সমর্থন পাবে, অন্যথায় জনগণই তার মূল্যায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের অর্থের বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আখতার হোসেন বলেন, কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভোট কারচুপি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল, যেখানে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে যোগ্যতা প্রাধান্য পাবে। সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ডের বিচার করবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান।
এ সময় জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ছোটন, মো. আলী রুশদী মজনু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার সাবেক আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, জেলা মুখ্য সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।