দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।
প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে বিতর্কপর্বে লোকসভায় অভিষেকের বক্তৃতায় বাধা, শাসকশিবিরের সমর্থন পেলেন সায়নী
দেশ
অভিষেকের বক্তৃতার সময় বার বার শাসক বেঞ্চ থেকে বাধা আসায় এক সময় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ট্রেজ়ারি বেঞ্চ লক্ষ্য করে উত্তেজিত ভাবে মন্তব্য করতেও শোনা যায় তাঁকে।
দেশটির আনন্দ বাজার জানায়।
প্রশ্নফাঁস রুখতে লোকসভায় পেশ করা ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন্স (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ (পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধনী বিল) নিয়ে বিতর্কে মঙ্গলবার যোগ দিলেন তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত দুই সাংসদ— অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে বার বার ট্রেজ়ারি বেঞ্চ থেকে বক্তৃতায় বাধা দেওয়া হল। অন্য দিকে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সায়নী বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে পেলেন শাসকের তারিফ।
অভিষেক মঙ্গলবার বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল কাগজে-কলমে থাকলেও তা বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতাকে মুছে দিতে পারবে না।’’ তিনি প্রস্তাবিত আইনটির প্রতি তাঁর দলের সমর্থন জানানোর পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের সুরেই প্রশ্ন তোলেন, কেন ২০২৪-এর প্রশ্নফাঁস আইন দু’বছরের মধ্যেই আবার সংশোধন করতে হচ্ছে। অভিষেকের বক্তৃতায় সময় বার বার শাসক বেঞ্চ থেকে বাধা আসায় এক সময় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সে সময় ট্রেজ়ারি বেঞ্চ লক্ষ্য করে উত্তেজিত ভাবে মন্তব্য করতে শোনা যায় কৃষ্ণনগরের সাংসদকে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, অভিষেক বলতে শুরু করার পরেই সভা ছেড়ে চলে যান স্পিকার ওম বিড়লা।
অন্য দিকে, যাবদপুরের সাংসদ সায়নীর দাবি, নিট-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরে দেশের ছাত্রসমাজ যে ভাবে এগিয়ে এসেছে, তা প্রমাণ করে ভারতে গণতন্ত্র বেঁচে আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার তাদের কথা শুনে এই সংস্কার বিল এনে ভালো পদক্ষেপ করেছে বলে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটের শরিক হওয়া সায়নীর মত। যদিও মঙ্গলবার তাঁকে বিরোধী আসনে বসেই সরকারের পক্ষ নিতে দেখা গিয়েছে। বিরোধীদের উদ্দেশে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার পরেও বিরোধীরা আলোচনা থেকে সরে যাচ্ছে। তারা কেবল রাজনীতি করছে।’’ এ সময় শাসকশিবির থেকে সমর্থনের স্বর ভেসে এসেছে সায়নীর উদ্দেশে।
প্রসঙ্গত, সোমবার লোকসভায় ‘পরীক্ষায় কারচুপি প্রতিরোধ সংশোধনী বিল’ পেশ করেছিল কেন্দ্র। ওই সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে, সেই সঙ্গে করা হবে ১০ কোটি টাকা জরিমানা। যদিও বিরোধীদের মতে, ২০২৪ সালের আইন সংশোধন করে প্রশ্নফাঁস আটকানো সম্ভব নয়, সরাতে হবে দুর্নীতিগ্রস্তদের। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ, বিজেপি সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ, তেজস্বী সূর্য, অনুরাগ ঠাকুরেরা ইউপিএ জমানার কয়েকটি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তুলে কংগ্রেসকে নিশানা করেন। সেই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদ অচল করার অভিযোগ তোলেন। প্রাথমিক ভাবে বিতর্কের জন্য ছ’ঘণ্টা বরাদ্দ হলেও পরে স্পিকারের অনুমোদনক্রমে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ১০ ঘণ্টা বিতর্ক হবে বিল নিয়ে।
প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে। কিন্তু সোমবার সংসদে আসতেই বিজেপি সাংসদেরা সংবর্ধনা দিয়েছিলেন তাঁকে। মঙ্গলবার প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে বিতর্কে এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। ট্রেজ়ারি বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘উনি কি সুপারম্যান!’’ সেই সঙ্গে গুজরাতে গোধরা-পরবর্তী দাঙ্গাপর্বে বিলকিস বানো গণধর্ষণের মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টিও তুললেন ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ। বিলকিস মামলার দোষীদের মুক্তির পরে বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা তৎকালীন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীর পুরনো একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ প্রিয়ঙ্কা উল্লেখ করায় সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়ে লোকসভায়। শেষ পর্যন্ত তাঁর ওই মন্তব্য সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়। দিল্লিতে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর লাঠি চালানো, কাঁদানে গ্যাস, ছর্রা গুলি ছোড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রিয়ঙ্কা।