অনলাইন ডেস্ক।।

নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তি আবেদন কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবারের মধ্যে আবেদনের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী সপ্তাহের রবি-সোমবারের মধ্যে ভর্তি আবেদনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

গত কয়েক বছরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসনসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে গত বছর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমতে শুরু করেছে। চলতি বছরও পাসের হার আরও কমেছে।

এ কারণে দেশের কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট আসনসংখ্যার সঙ্গে সম্ভাব্য শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে হতে পারে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাধারণ কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৯ হাজার ৩১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে ৮ হাজার ৭১টি কলেজ ও মাদরাসা।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। মোট ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ কারণে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ আসন খালি থাকতে পারে।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩.৯৯ শতাংশ।

ফলাফলে এবারও ছাত্রীদের সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। একইভাবে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। চলতি বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।

এদিকে চলতি বছর মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০৩টি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২০১টি বেড়েছে। এখন আগামী সপ্তাহে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।