অর্থনীতি ডেস্ক।।
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুরোধ জানাতে ঢাকায় আসছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ থেকে তাদের রাজ্যে ইলিশ রপ্তানির অনুরোধ জানাবেন। পশ্চিমবঙ্গের আমদানিকারক সংগঠনের নেতা অতুলচন্দ্র দাস আশা প্রকাশ করে বলেন, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হবে।
গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে মোট ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। এর আগে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু এবং দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ ছিল। পরে ২০১৯ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আবারও পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।
বাংলাদেশের বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এসব ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ গতবারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন যাতে করে বেশি ইলিশ নেওয়া যায় বাংলাদেশ থেকে। এবারও সেই চেষ্টা করছেন। পদ্মার ইলিশ এক কেজি ওজনের বেশি হলেই পশ্চিমবঙ্গে তা আড়াই হাজার রুপি পর্যন্ত প্রতি কেজি দাম ওঠে।
এবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘা, নামখানায় ইলিশের জোগান যথেষ্ট রয়েছে। তবে বড় ইলিশ নেই। এখন পর্যন্ত এক কেজি ওজনের ইলিশ এসেছে একেবারে নামমাত্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা, পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ট্রেডার্স ও ট্রলার মালিকদের সংগঠনের নেতা বিজন মাইতি বলেছেন, ‘গত পাঁচ-ছয় দিন খুবই ভালো ইলিশ উঠেছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপর যদি ভালো পরিমাণ মাছ ওঠে তো বলতে হবে গতবারের চেয়ে জোগান বেশি। না হলে গতবারের মতোই থাকবে।’