বিশেষ প্রতিনিধি:
তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাকরি ও ন্যায়বিচার বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নিয়োগ সম্পন্ন ও তাদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) না নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে অন্যায়ভাবে দাপ্তরিক কাজে বাধা দিয়ে চাকরিচ্যুত করায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।এ অবস্থায় সকল বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ তাদের অবিলম্বে নিয়োগের আবেদন জানিয়ে এবং মানবিক বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই রেজিস্টার্ড আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) প্রেরণ করা হয়।সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ ওমর ফারুক ভুক্তভোগীদের পক্ষে সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মানবসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী সচিবদের বরাবরে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। ​নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ৮ম জাতীয় সংসদ চলাকালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানদের বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) এবং নিরাপত্তা রক্ষী পদে কর্মরতদের পদগুলো ২০০৬ সালে নিয়মিত বেতন স্কেলে উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন প্রার্থীরা। উত্তীর্ণ ৬৩ জন প্রার্থীকে প্রবেশপত্র দিয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হলেও অজ্ঞাত কারণে হাসিনা সরকারের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ সেই ভাইভা আর অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে কোনো লিখিত বরখাস্তের আদেশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই বেআইনিভাবে তাদের কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়। বঞ্চিতদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক জানান, প্রকৃত পক্ষে ন্যায় নীতি লঙ্ঘন করে ভুক্তভোগীদের কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়েই বেআইনিভাবে তাদের চাকরি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ ২০১০ সালে একইভাবে বাদ পড়া সংসদ সচিবালয়ের অন্য একদল কর্মচারীকে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান, মোঃ মাহবুবুর রহমান, মোঃ জামিল আহসান, মোঃ আলম আলীসহ ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থনৈতিক অনটন ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা পুনর্বহালের আসায় গত ১৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়েও আবেদন জমা দিয়েছেন।​নোটিশে বলা হয়, নাগরিক ও ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অবিচারের অবসান ঘটাতে এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে ঝুলে থাকা মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাদেরকে শূন্য পদে পুনর্বহাল করা উচিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অধিকার রক্ষায় মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।