তোজাম্মেল আযম।।
মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে।
প্রসস্ত সড়ক, মাঝখানে সড়ক বিভাজন (ডিভাইডার) আর নতুন অবকাঠামোয় বদলে গেছে এ পথের চেহারা। তবে নতুন এই বিভাজনের দেয়াল এখন শুধু যানবাহনের গতিপথ আলাদা করছে না, কৃষকের পাট শুকানোর কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, কৃষকেরা ডিভাইডারের দেয়ালে পাটের আঁটি তুলে দিচ্ছেন। রোদে শুকানোর জন্য সড়কের পাশে ও বিভাজনের ওপর পাট মেলে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে কৃষকের বাড়তি জায়গার প্রয়োজন মিটছে, অন্যদিকে ব্যস্ত মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সড়কের পাশে পাট শুকাচ্ছিলেন গাংনীর এক পাটচাষি আবদুল কাদের। তিনি বলেন, পাট শুকানোর জায়গা পাওয়া এখন বড় সমস্যা।
বাড়ির উঠান ছোট, মাঠেও সব সময় জায়গা থাকে না। ডিভাইডারের দেয়ালে পাট দিলে রোদ ভালো লাগে, শুকাতেও সময় কম লাগে। তবে গাড়ি খুব দ্রুত চলে ঝুঁকি যে আছে, সেটাও বুঝি।
তার মতো অনেক কৃষকের কাছেই সড়কের বিভাজন যেন অস্থায়ী পাট শুকানোর মাচা হয়ে উঠেছে। কিন্তু সড়ক ব্যবহারের নিয়মে এ ধরনের কাজে বিভাজন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সড়কে পাট শুকানোকাজে যুক্ত এক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমারা শ্রমিক। আমাদের যেখানে বলবে সেখানেই পাট মেলে শুকাবো।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ডিভাইডার বানানো হয়েছে রাস্তার দুই পাশের যানবাহন আলাদা রাখার জন্য। এখন দেখছি অনেকে সেখানে পাট শুকাচ্ছেন। পাট শুকাতে গিয়ে কেউ যদি রাস্তার দিকে চলে আসেন বা কোনো পাট পড়ে যায়, তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, সড়কটি নতুন হওয়ায় এখন যানবাহনের গতি অনেক বেশি। তাই রাস্তার পাশে কোনো কিছু শুকানো বা রাখা ঠিক হবে না। কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে ভালো হয়।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, পাট উৎপাদনের পর শুকানো ও সংরক্ষণে গ্রামাঞ্চলে জায়গার সংকট দিন দিন বাড়ছে। ফলে সড়কের পাশে খোলা জায়গা, সেতুর রেলিং কিংবা ডিভাইডাঠ যেখানে একটু রোদ পাওয়া যায়, সেখানেই পাট শুকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা।
তবে চার লেনের নতুন এই মহাসড়ককে কৃষিপণ্য শুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হলে সড়কের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা দুটিই ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাটের আঁটি বা শুকানো পাট বাতাসে কিংবা অসাবধানতায় মূল সড়কে চলে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কটি এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর এ পথে যান চলাচল যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে যানবাহনের গতিও। তাই কৃষকের পাট শুকানোর প্রয়োজনের সঙ্গে সড়কের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি স্থানীয়দের।
কৃষকের পাট শুকানোর জায়গা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন নিরাপদ সড়কও। নতুন চার লেনের সড়কের বিভাজন যেন সেই প্রয়োজনের অস্থায়ী সমাধান না হয়ে ভবিষ্যতের কোনো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এখনই সে বিষয়ে নজর দেওয়ার সময়।