দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাতে দর্শনা থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দর্শনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা পৌর শহরে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত অনিকের বাড়ি, সাবেক দর্শনা পৌর মেয়র আতিয়ার রহমান হাবুর বাড়ির গেট এবং পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক আরিফের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভাঙা কাচের আঘাতে আরিফের স্ত্রী ফারিযা বেগম লিলা (৪৮) আহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ভাঙচুরের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট লীগ’সহ কয়েকটি ফেসবুক পেজে একটি মশাল মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে হেলমেট ও মুখোশ পরা কয়েকজনকে মশাল হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাঁদের মুখে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘চুয়াডাঙ্গার মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।
তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় এবং কখন ধারণ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতা মিছিলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
এদিকে বুধবার সকালে শহরের কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিকের বাড়ি এবং আতিয়ার রহমান হাবুর বাড়ির গেটে ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। পরে গোলাম ফারুক আরিফের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাচ ভাঙার সময় ফারিযা বেগম লিলা আহত হন।
মশাল মিছিলের প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা রেলবাজারের শাহরিয়ার শুভ মুক্তমঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌর বিএনপি, থানা ছাত্রদল ও যুবদল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দর্শনা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য খন্দকার শওকত আলী, নাহারুল ইসলাম মাস্টার, ইকবাল হোসেন, নাসিরুদ্দিন খেদু, লুৎফর রহমান, মমিনুল ইসলামসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় খন্দকার শওকত আলী বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে কোনো মিছিল বরদাশত করা হবে না।’ তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কারও বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক দর্শনা পৌর মেয়র আতিয়ার রহমান হাবু বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। কে বা কারা আমার বাড়ির গেট ভেঙেছে, তা জানি না। কোনো সাধারণ মানুষের ওপর আমরা বিপদ চাই না।’
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে ফেসবুকে মশাল মিছিলের ভিডিও দেখেছেন। সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার তিনটি স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জানা গেলেও এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।