ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে রবিউল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যাদবপুর মাঝপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিন মৃধার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে যাদবপুর গ্রামে নিহতের ১০ বছরের ছেলে সিফাত ইয়ামিন জিহাদ এবং একই গ্রামের লুৎফর রহমানের ১৩ বছরের ছেলে সোহানুর রহমান সোহান ফুটবল খেলছিল। এ সময় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শিশুদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
এর জের ধরে বেলা ১টার দিকে সোহানের পিতা লুৎফর রহমান (৪৬) বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে শিশু জিহাদকে মারার জন্য ধাওয়া করেন। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে সিফাতের পিতা রবিউল ইসলাম তাদের সামনে যান।
এ অবস্থায় স্থানীয় খলিল মোল্লার বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে রবিউল ইসলামের সঙ্গে লুৎফর রহমানের বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লুৎফর রহমান তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে রবিউল ইসলামের ঘাড় ও পিঠে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে রবিউলকে বাড়িতে নিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় যাদবপুর বাজারের এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর তাকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি।