অনলাইন নিউজ ডেস্ক
ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তাঁর বিমান অবতরণ করে। সেখানে পুতিন ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ।
শনিবার থেকে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে ১৮তম ব্রিক্স সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশা প্রকাশ করেছেন, ব্রিক্স সম্মেলনে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিশ্বকল্যাণের আকাঙ্ক্ষাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুতিনের ভারত সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া রাশিয়ার অশোধিত তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে পুতিনকে ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদী। পরে ক্রেমলিন জানায়, সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশে আয়োজিত ব্রিক্স সম্মেলনে পুতিনের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। ফলে এবার তাঁর ভারত সফরকে নয়াদিল্লি-মস্কোর কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিক্স সম্মেলনের আগে পুতিনের ভারত সফর এবং মোদীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরালো করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে।