অনলাইন ডেস্ক।।
ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে সরকারের নেওয়া তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ। সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এ সময় ৬৪টি জেলা ও ৫০৩টি উপজেলা থেকে জুম ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা যুক্ত থাকবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
কর্মসূচির শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত, ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সহসভাপতি এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে ডেঙ্গু ও এডিস মশা প্রতিরোধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি ভিডিও প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিনবার প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশব্যাপী উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সারাদেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়াতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠনের পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরেও এ অনুদান দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকা-১৭ আসন এলাকার ২৮টি মসজিদে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০টি মন্দিরকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে গতকাল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান। প্রধানমন্ত্রী ওই কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ কথা জানিয়েছেন।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী আহত সেনা কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন এবং তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই সেনাসদস্য নিহত এবং এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।