গাংনী প্রতিনিধি।।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জুয়েল হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার জুয়েল হোসেন গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার হাশেম আলীর ছেলে। অভিযোগকারী শিশুটিও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুটি চৌগাছা এলাকার একটি পুকুরে মাছ ধরা দেখতে যায়। সেখানে জুয়েল হোসেন মাছ ধরছিলেন। এ সময় শিশুটিকে ডেকে পাশের আমবাগানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পরে আমবাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার পর ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা জানতে চাইলে সে ঘটনার কথা জানায়। এরপর স্বজনরা তাকে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জুয়েল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারে অভিযুক্তের বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হলেও জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ১৬ বছর। তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আগে বখাটেপনার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামীকাল ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরকে অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।