চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চুয়াডাঙ্গার কৃতিসন্তান আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এই মর্মে চুয়াডাঙ্গায় একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।

নির্ধারিত মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি চুয়াডাঙ্গা কোর্টমোড় এলাকা ঘুরে একই স্থানে এসে সমাপ্ত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আজমুল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহতের পিতা কুতুবউদ্দিন এবং মাতা আসমা খাতুন গভীর শোক ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, “অফুরন্ত স্বপ্ন ও বুকভরা আশা নিয়ে ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তুচ্ছ ও মিথ্যা ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই, অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে নিহতের পরিবার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, শিক্ষক আবু দেলোয়ার মুন্না, পরিবেশকর্মী আহসান হাবিব শিবলু এবং চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।