আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে সব সদস্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইসিসিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের এমন একটি আদালতের তদন্ত বা বিচারের মুখোমুখি করা উচিত নয়, যার ওপর ওয়াশিংটনের কোনো এখতিয়ার নেই।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প আইসিসির কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আদালটিকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে এর সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত সদস্যপদ ত্যাগের আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনীর সদস্য কিংবা অন্য কোনো নাগরিককে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত বা বিচারের আওতায় যেতে দেবে না, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এখতিয়ার নেই। এ অবস্থান থেকেই তিনি আইসিসির সদস্য দেশগুলোর প্রতি প্রতিষ্ঠানটি থেকে ‘অবিলম্বে’ সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, এসব সংস্থা বিশ্বের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি ও ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত নীতির সমালোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের বক্তব্যে আইসিসি ছাড়াও ইরান, ইউক্রেন, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা উঠে আসে। ফলে তাঁর এবারের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আইসিসি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও আদালটির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং আইসিসির এখতিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
হেডলাইনে ট্রাম্পের আহ্বান আরও তীব্র করুন
সাবহেডে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ স্পষ্ট করুন
লিডে ভাষণের প্রেক্ষাপট জোরালো করুন