বগুড়া প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ম অমান্য করে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক এলএলবি ডিগ্রি অর্জন এবং তথ্য গোপন করে পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করার গুরুতর অভিযোগে মো. আব্দুল ওহাব নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৯ বছর আগের এই নোটিশ সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় বগুড়া আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বার কাউন্সিলের তৎকালীন সচিব ও জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার জানগ্রাম এলাকার আফতাব আলীর ছেলে মো. আব্দুল ওহাব ২০১১ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৩ সালে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ২ বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) কোর্স এবং ২০১৫ সালে দি পিপলস ইউনিভার্সিটি থেকে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে শিক্ষানবিশ হিসেবে ইন্টিমেশন দাখিল এবং বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে এবং পূর্বের একটি রেজিস্ট্রেশন সচল থাকা অবস্থায় নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন, যা বার কাউন্সিলের বিধিমালার পরিপন্থী ও অসঙ্গতিপূর্ণ।
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বার কাউন্সিলের সচিবের নিকট সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া চিঠির অনুলিপি অবগতির জন্য বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং এড. মো. নাজমুল হুদার কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১১ মার্চ বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতিতে এই কারণ দর্শানোর নোটিশটি পাঠানো হলেও তখন সেটি গোপন রাখা হয়। দীর্ঘ সাড়ে ৯ বছর বিষয়টি আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি নথিপত্র ঘাটাঘাটির সময় বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে।
এ বিষয়ে আব্দুল ওহাবের প্রথম সিনিয়র আইনজীবী এড. আব্দুল বাসেত জানান, “তিনি আমার অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন দাখিল করেছিলেন এবং কিছুদিন জুনিয়র হিসেবে কাজও করেছেন। তখন তিনি আমাকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দেখিয়েছিলেন এবং আমি তা দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম। পরবর্তীতে তিনি আর আমার সঙ্গে ছিলেন না।”
বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ আসার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। যে কারণে তৎকালীন দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সম্প্রতি বার সমিতির পুরোনো নথিপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিষয়টি তাদের চোখে পড়ে। বর্তমানে বার কাউন্সিলে ফাইলটি কী অবস্থায় আছে তা খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে যথাযথ সাংগঠনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এড. আব্দুল ওহাব জানান, মোস্তাফিজার নামের এক ব্যক্তির মিথ্যা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। মূলত তিনি প্রথমে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দিয়ে ইন্টিমেশন দাখিল করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি দি পিপলস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং সেই সার্টিফিকেট দিয়েই নতুন করে ইন্টিমেশন দাখিল করেন। তবে নোটিশে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।