আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটে এক পাইলট আরেক পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাকারী পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য বা হামলার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশসীমায় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, দুই মিনিটেরও কম সময়ে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। পরে বিমানটি জরুরি সংকেত ‘স্কোয়াক ৭৭০০’ এবং কিছুক্ষণ পর ছিনতাইয়ের সংকেত ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ পাঠায়। এরপর বিমানটি ঘুরে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরের দিকে যায় এবং নিরাপদে অবতরণ করে।

বিমানে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাদের প্রায় সবাই ইসরায়েলি নাগরিক। পরে যাত্রীদের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তেল আবিবে নেওয়া হয়।

নেতানিয়াহু জানান, বিমানের এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং পরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি তিনি। হামলাকারীকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ছুরিকাহত পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তিনি ভারতীয় নাগরিক। তাকে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল।

নেতানিয়াহু মাচ্ছারকে ‘নায়ক’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও মাচ্ছার প্রতিরোধ করেন, ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন এবং যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন। এর ফলে ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায়ও অন্যদের জীবন রক্ষায় মাচ্ছার অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।

যাত্রীদের কয়েকজনও হামলাকারীকে কাবু করার ঘটনায় ভূমিকা রাখেন। যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ছুরিকাহত পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর তিনি হামলাকারীকে জাপটে ধরেন। অন্য যাত্রীরা তাকে চেপে ধরতে সহায়তা করেন। পরে আরেক পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

আরেক যাত্রী জভিকা মেনেস জানান, যাত্রীরা হামলাকারীকে তার নিজের জিপ টাই এবং হেডফোন দিয়ে বেঁধে ফেলেছিলেন।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে একটি ‘বিরোধের ঘটনা’ ঘটেছিল। বিমানে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে পুলিশের তদন্ত, জরুরি সেবা বা তদন্তকারীদের কাছ থেকে এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, হামলাকারী ‘সম্ভবত সন্ত্রাসী’ হতে পারেন, আবার অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

বিমানটি তাবুকে অবতরণের পর সৌদি ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়েছিল। পরে যাত্রীদের নিয়ে বিশেষ ফ্লাইটটি বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে তেল আবিবে পৌঁছায়।