ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহ শহরের প্রাণরেখা ঐতিহাসিক নবগঙ্গা নদী আজ অবহেলা ও দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অনাবাদি দশায় নদীর পুরো উপরিভাগ ঘন কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে জলজ পরিবেশ এবং নদীর ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। এই বেহাল দশা দেখে নদী বাঁচাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা না করে নিজেই মাঠে নেমে পড়েছেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস।

সরেজমিন দেখা যায়, নবগঙ্গা নদীর মাইলের পর মাইল অংশজুড়ে শুধু কচুরিপানার রাজ্য। পানির ওপর কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকায় জলজ প্রাণীরা অক্সিজেনের তীব্র সংকটে ভুগছে, মাছের স্বাভাবিক খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।

নদীর এমন করুণ চিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৫৬-৫৭ বছর বয়সী বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাস। নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, শৈশব থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই নবগঙ্গার সঙ্গেই তার গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। নদীটিকে বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে অন্য কারও এগিয়ে আসার অপেক্ষা করলেও কাউকে না পেয়ে তিনি নিজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন।

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সামনেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। নদীর এই ঘন কচুরিপানা পরিষ্কার না করলে ভক্তরা নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারবেন না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সম্পূর্ণ নিজ খরচে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে নদীর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছর তিনি নিজ উদ্দ্যোগে এই নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করেছিলেন।

একজন রাজনৈতিক নেতার এমন ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহল। তাদের মতে, আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের এই কাজ কেবল একটি নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা নবগঙ্গাকে বাঁচাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তাকে দেখে আগামী দিনে সমাজের বিত্তবান ও অন্যান্য পরিবেশপ্রেমী মানুষও নদী রক্ষায় এগিয়ে আসবেন বলে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।