আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও ট্রাম্পের দাবি, এ বিষয়ে ইরান তার আগের পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানিয়েছে ইরান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমছে।
ট্রাম্প বলেন, “তেলের দাম কমছে। এখন তেলের দাম কম। বাইডেন প্রশাসনের সময়ের চেয়েও এখন দাম কম। অথচ তারা ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কিছুই করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান, আপনারা জানেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।”
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সংঘাতের প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেলের বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা দেখা যায়।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও তেহরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
ইরান জানিয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচির কাঠামোগত কোনো পরিবর্তনও করা হবে না।