নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা:
“উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা সমন্বয়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি. এম. তারিক উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা বাজার মনিটরিং অফিসার শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ও সার্বিক উন্নয়নে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। উদ্ভাবনী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জেলার প্রতিটি খাতে উৎপাদনশীলতা আরও বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের উৎপাদন যত বেশি বৃদ্ধি পাবে, জনগণের মাথাপিছু আয়ও তত বাড়বে। জিডিপি বৃদ্ধি পেলেই দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কর্মঘণ্টার আর্থিক মূল্য অনেক বেশি, যেখানে নরওয়েতে কর্মঘণ্টার মূল্য ১০০ ডলার এবং আমেরিকায় ৮৪ ডলার, সেখানে বাংলাদেশে তা মাত্র ৮ ডলার। তাই উৎপাদন বাড়ালে কর্মঘণ্টার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। তবে এজন্য অবশ্যই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ দক্ষ শ্রমিক ছাড়া কর্মঘণ্টার সঠিক মূল্য পাওয়া সম্ভব নয়। দেশের সার্বিক অগ্রগতির স্বার্থেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
সভায় আরও বক্তব্য দেন—কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ মোছাব্বেরুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, বাংলাদেশ গ্রামীণ উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উপপরিচালক জাকিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কামরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও জেলা ক্রীড়া অফিসার সেলিম রেজাসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।