আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক মার্কিন সেনা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে পেন্টাগন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এ অনুমোদন দেন বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল। তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন সেনাবাহিনীর সচিব।

আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ওই হামলায় ১২ জন নিরস্ত্র কর্মরত সেনাসদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ৩২ জন। হামলার সময় হাসান ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করেছিলেন বলে জানান পারনেল।

২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালত হাসানকে ৪৫টি পরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। টেক্সাসের ওই সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে লেজারযুক্ত পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়েছিলেন তিনি।

৫৬ বছর বয়সী হাসানকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ গুলি করায় তার শরীরের কিছু অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। এ কারণে তিনি হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। আদালতে তিনি হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এ হামলা চালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত বিরল। হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটিই হবে দেশটির প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াডের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চেয়ার ও গ্যাস প্রয়োগের পদ্ধতিও অনুমোদিত করেছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ সংগ্রহে ক্রমবর্ধমান জটিলতার কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।