চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। তাঁর উদ্যোগ ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের অসহায় নারী ফিরোজা খাতুনের টিউমার অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার ফিরোজা খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জানান, আগামী শনিবার তাঁর টিউমারের জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। অপারেশনের খরচের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের মধ্যে ১৩ হাজার টাকা ঘাটতি ছিল। দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় ওই অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

ফিরোজার বিষয়টি জানার পর ইউএনও তিথি মিত্র তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কার্যালয়ের সহকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিরোজাকে বৃহস্পতিবার আবারও অফিসে আসতে বলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ফিরোজা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে ইউএনও, তাঁর সহকর্মী এবং মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সংগৃহীত অর্থ গণনা করে দেখা যায়, অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পুরো ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে।

সহায়তার অর্থের খাম ফিরোজা খাতুনের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ইউএনওর উদ্দেশে বলেন, “মা, তোমার জন্য অনেক দোয়া।”

জবাবে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, “চাচী, শুধু আমার জন্য নয়, আমার সহকর্মীদের জন্যও দোয়া করবেন। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া আপনার পাশে দাঁড়ানো আমার একার পক্ষে সম্ভব হতো না।”

পরে ফিরোজা খাতুন উপস্থিত সবার জন্য দোয়া করেন এবং সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আবারও দেখা করার আশ্বাস দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এ বিষয়ে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, ফিরোজার বিদায়ের দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে তিনি আনন্দিত। ফিরোজা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

ইউএনওর এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা দেখা গেছে। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন মানবিক ও সহমর্মী ভূমিকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।