দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ২৪ বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কালিয়াবকরী গ্রামের হাসান আলী ওরফে পুটু। দীর্ঘ দুই যুগ প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে দেশে ফিরলেন তিনি। তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে।

হাসান আলী ওই গ্রামের মৃত উসমান গনির ছেলে। তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কালিয়াবকরী গ্রামের পরিবেশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৪ বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আফ্রিকায় পাড়ি জমান হাসান আলী। সেখানে দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি এক আফ্রিকান নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাঁদের ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন হাসান আলী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক সপ্তাহ পর তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়।

দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে স্বজন ও এলাকাবাসী কালিয়াবকরী গ্রামে ছুটে আসেন। কফিনবন্দি হাসানকে দেখে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রবাসে রেখে যাওয়া হাসান আলীর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘ ২৪ বছর প্রবাসে কাটানো হাসানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।