যশোর প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ সেবাকে সহজ ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা চালু করা হলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওজোপাডিকো গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মাসের শুরুতেই মিটার ভাড়া, লোড অনুযায়ী ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কেটে নেওয়ার পর মিটারে পর্যাপ্ত প্লাস ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও ২০০ বা ২৫০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের টাকা রিচার্জ করতে পারছেন না তারা।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং কৃর্তপক্ষের টেকনিক্যাল সমন্বয়হীনতার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অ্যাপ বা সিস্টেমে সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা রিচার্জ করার বাধ্যবাধকতার নোটিশ আসছে, যা কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই চালু করা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষ।
যশোরের আবরপুর এলাকার গণমাধ্যমকর্মী ফয়সল ইসলাম জানান, প্রিপেইড মিটারে মাসের প্রথম রিচার্জে সমস্ত দেনাপাওনা পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও ১২ ও ১৩ অক্টোবর রকেট ও বিকাশ থেকে ২৫০ টাকা এবং ২০০ টাকা রিচার্জ করতে গেলে তা ব্যর্থ হয়। সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা রিচার্জের বার্তা দিয়ে লেনদেন বাতিল করে দেওয়া হয়। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁচড়া এলাকার দিনমজুর আলাউদ্দিন এবং বারান্দীপাড়ার আবিদুর রহমান। তাদের দাবি, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের পক্ষে এককালীন ৪০০ টাকা রিচার্জ করা সম্ভব হয় না। সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প অল্প টাকা রিচার্জের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
মোবাইল ব্যাংকিং ও টেকনিক্যাল সূত্রগুলো জানায়, সেন্ট্রাল ভেন্ডিং সিস্টেম ও অ্যাপের ব্যাক-এন্ড থেকে সর্বনিম্ন রিচার্জ সীমা ৪০০ টাকা নির্ধারণ করে রাখার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। তবে ওজোপাডিকো যশোর ১ ও ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলীরা এ ধরনের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মাসের প্রথম রিচার্জে যাবতীয় ফি কেটে নেওয়ার পর মিটারে ধনাত্মক ব্যালেন্স থাকলে যেকোনো অঙ্কের টাকা রিচার্জ করা সম্ভব। কোনো গ্রাহক এমন সমস্যার সম্মুখীন হলে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, বিকাশ বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন সামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, বিকাশের পক্ষ থেকে ৪০০ টাকার নিচে রিচার্জের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কারিগরি কারণে এমন বার্তা কেন যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের এই কারিগরি জটিলতা নিরসন করে সর্বনিম্ন রিচার্জের সীমা ৪০০ টাকা থেকে নামিয়ে ১০০ টাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।