ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
দেশ থেকে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে হলে সর্বগ্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত প্রমাণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি বন্ধ করার প্রথম ও প্রধান পূর্বশর্ত হলো, আমরা যারা প্রকাশ্যে দুর্নীতি বন্ধের কথা বলছি—সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিজেদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তা না করতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধের এই প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।”
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের দায়িত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় প্রসঙ্গে আলোকপাত করে মন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, প্রযুক্তির এ যুগে বর্তমান নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা শিক্ষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে, কারণ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মাদকের ভয়াবহ মরণনেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে নতুন করে উদ্ভাবনী উপায়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে এবং শিক্ষকদের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম ও প্রশাসনিক সুশাসন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন কিংবা ঘুষের অভিযোগ ওঠে, তবে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়ে অনেকেই প্রধান শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একই সাথে কোনো প্রধান শিক্ষক যদি শিক্ষার পবিত্র পরিবেশ বিনষ্ট করে অনিয়ম-লুটপাটে জড়া পান, তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।