আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করেছে পাকিস্তান। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো শান্তি আলোচনা শুরু হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির নেতৃত্ব।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনীরের ইরান সফরকালে এসব বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই দেশটির অবস্থান স্পষ্ট করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকে সঙ্গে নিয়ে ইরান সফর করছেন সেনাপ্রধান অসীম মুনীর। গত জুনের পর এটি তাঁর পঞ্চম ইরান সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরানি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাঁদের অনাস্থার কথা তুলে ধরেন।

তেহরানের অভিযোগ, গত জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন। এ কারণে ইরানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রবন্দর ঘিরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।

তেহরানের মতে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে এসব বিষয়ে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু আলোচনার প্রস্তাব নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই ওয়াশিংটনকে নিজেদের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে হবে বলে ইরানের অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ এই পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তম অ-পারমাণবিক বোমা হিসেবে পরিচিত ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

প্রায় আট মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে গত জুনে একটি যুদ্ধবিরতি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌচলাচল, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনীর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবির মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস