শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহেদ আহম্মেদের (৩৬) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহত শাহেদ আহম্মেদ শাজাহানপুর উপজেলার বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। শাহেদের বাবাও প্রায় ৩০ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শাহেদও সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে ‘সাদ আল ঈসা’ নামের একটি কনট্রাক্টিং কোম্পানিতে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ।
তবে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই জরুরি প্রয়োজনে কোম্পানি থেকে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিলে গত ৯ অক্টোবর তিনি পুনরায় সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন ১০ অক্টোবর বিকেলে রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছালে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন তিনি।
শাহেদের অকালমৃত্যুতে দুই শিশুসন্তান আবদুল্লাহ (৬) ও কাওসারকে (১১) নিয়ে চরম দিশেহারা ও অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী কোহিনূর আখতার কাকলী (২৬)। শাহেদের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পরপরই শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাইফুর রহমান নিহত শাহেদের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান। পরবর্তীতে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম.আর ইসলাম স্বাধীন নিহতের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং এতিম শিশুদের লেখাপড়াসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, শাহেদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ‘সাদ আল ঈসা’ তাঁর বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরি সংক্রান্ত পাওনা বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ রিয়াল বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংকে জমা দিয়েছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকা।